English

বিদ্রোহের অভিযোগ থেকে খালাস আনসার সদস্যরা চাকরি ও পেনশন পাবেন

১০ জুলাই ২০১৭, ১৭:২৬

জনসংবাদ রিপোর্টঃ১৯৯৪ সালের আনসার বিদ্রোহের অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়া ১ হাজার ৪৪৭ জনকে তাদের চাকরি ও পেনশন সুবিধা দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়েছে, আনসার বিদ্রোহের অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়া ১ হাজার ৪৪৭ জনের মধ্যে যাদের বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা আছে- তাদেরকে চাকরিতে পুনর্বহাল এবং যাদের চাকরির বয়স শেষ হয়েছে- তাদের প্রাপ্য পেনশন সুবিধা দিতে হবে।

এই বিষয়ে আগে জারি করা দুইটি রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এই রায় দেয়। এর আগে গত ১৩ এপ্রিল ২৮৯ জন আনসারের পক্ষে একই রায় দিয়েছিল হাইকোর্টের এই বেঞ্চ।

আদালতে আনসার সদস্যদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাহাবুদ্দিন খান লার্জ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সূচীরা হোসাইন ও প্রতিকার চাকমা।

ওই রায়ের পর ২৩ এপ্রিল পৃথক দুইটি রিট আবেদন করেন বিদ্রোহের অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়া চাকরিচ্যুত আনসাররা। একটি রিটে ১ হাজার ৩৭৩ জন, আরেকটিতে ৭৪ জন পক্ষভুক্ত হন। ওই দুই রিটের শুনানি নিয়ে গত ২৫ এপ্রিল রুল জারি করে আদালত।

আনসার সদস্যদের চাকরিচ্যুতি কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ রায় হল।

রায়ের পর সৈয়দ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, যারা পুনর্বহাল হবেন- তারা চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে বেতন পাবেন। আর যাদের চাকরির বয়স নেই- তারা যতদিন চাকরি করেছেন ততদিনের পেনশন পাবেন।

১৯৯৪ সালে আনসার বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়; যা ওই বছরের ৩০ নভেম্বর বিদ্রোহের রূপ নেয়। সেনাবাহিনী, বিডিআর ও পুলিশের সহযোগিতায় ওই বছরের ৪ ডিসেম্বর বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ওই ঘটনার পর কিছু আনসার সদস্য পালিয়ে যান।

পরে মোট দুই হাজার ৬৯৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে কিছু কর্মকর্তা চাকরিতে পুনর্বহাল হন। দুই হাজার ৪৯৬ জন আনসার সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়। চাকরিচ্যুতদের বিরুদ্ধে মোট সাতটি ফৌজদারি মামলা করা হয়। বিচারে যারা খালাস পান- তারা চাকরি ফিরে পেতে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করলেও সে সময় ফল হয়নি।

সর্বাধিক ক্লিক