English

যুবতীর প্রেমে ফরহাদ মজহারের অপরণ নাটক!

১২ জুলাই ২০১৭, ১৫:০৩

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যুবতীর সঙ্গে অনৈতিক প্রেমের টানে বুদ্ধি নাশ হয়েছে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবি ফরহাদ মজহারের। ৩ জুলাই ভোরে তিনিমোহাম্মদপুর স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে বেরহয়ে নিখোঁজ হন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়তাকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা এবং মুক্তিপণদাবি করেছে। কিন্তু তদন্তে বেরিয়ে এসেছে কেঁচো খুঁজ সাপ বেরিয়ে আসার ঘটনা।

এর পর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পুলিশ সদর দফতরের সমন্বয়ে ফরহাদ মজহারের কথিত অপহরণের ঘটনারতদন্ত শুরু হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় তদন্তে। আর এ তদন্তে বেরিয়ে গেছে, পুরোটাই ছিলো ফরহাদ মাজহারের সাজনো নাটক।আর এর নেপথ্যে এক অসায় নারী। মেয়েরে বয়সী এক প্রেমিকাকে আর্থিক সহযোগিতা করারজন্যেই অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন ফরহাদ মজহার।

ফরহাদ মজহার তার বান্ধবীর সঙ্গে ঘটনার আগে-পরে মোবাইল ফোনে যে ধরনের কথা বলেছেন, কথোপকথনের রের্কডওআইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সংগ্রহ করেছে। উভয়ের মোবাইল থেকে যে ম্যাসেজ আদান-প্রদান করেছেন এ রের্কডও রয়েছেআইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। তদন্তে শনাক্ত করার হয় এক নারীর মোবাইল ফোন। এ ফোনের সঙ্গে ফরহাদ মজহারেরহয়েছে কথা বার্তা। এ মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে খোঁজ পান তদন্তকারী কর্মকর্তারা এক নারীর।

ঐ নারী হলেন ফরহাদমজাহারের “উবিনীগ” নামের এনজিও’র সাবেক কর্মী। তার নাম অর্চনা রানী (২৮)। তিনি সহজ সরল এক নারী। বাঁচারতাগিদে অনেক কাঠখড় পুড়িয়েছেন। ২০০৫ সালে উবিনীগ নামক এনজিওতে চাকরি নেন তিনি।

অর্চনা রানী ভাবছেন এইবুঝি তার এক ঠাঁই হলো। কিন্তু কাজের ফাঁকে ফরহাদ মজহারের সঙ্গে তার হয়ে উঠে ঘনিষ্টতা। প্রথম লালন ফকিরেরআদর্শে ফরহাদ মজহারকে গুরু মেনে ফকিরী বায়াত নেন। এর থেকে শুরু হয় তাদের ঘনিষ্ঠতা। পরবর্তীতে মন দেওয়ানেওয়া এবং দৈহিক সম্পর্ক। ফরহাদ মজহার  প্রায়ই অর্চনা রানীর বাসায় যাতায়াত এবং দৈহিক মেলামেশা করতেন।ফরহাদ মজহার তাকে আর্থিক সহযোগিতা করতেন। বাড়ি ভাড়া থেকে শুরু করে সংসারের অন্যান্য খরচ দিতেন তিনি।২০০৭ সালে অর্চনা রানী অন্তঃসত্তা হয়ে পড়েন। ওই সময় তার অবৈধ গর্ভপাত ঘটনানো হয়।

ঐ গর্ভপাত ঘটাতে গিয়ে ঐসময় অর্চনা রানী শারীরিক ক্ষতিগ্রস্ত হন। সুস্থ হয়ে উঠতে তার অনেক সময় লাগে। ঐ সব ঘটনা ফরহাদ মজহারেরপরিবারে জানাজানি হলে অর্চনা রানী উবিনীগ থেকে চাকরি হারান।

চাকরি হারালেও ফরহাদ মজহারের আর্থিক সহযোগিতাঅব্যাহত থাকায় অর্চনা রানীর কোন সমস্যা হয়নি সর্বশেষ তিনি আবার ৪ মাসের অন্তঃসত্তা হয়ে পড়েন। তিনি ফরহাদমজহারকে বলেন, আপনার সম্পর্ক এখন আমার পেটে। ফরহাদ মজহার অর্চনা রানীকে আশস্ত করেন যে, এবার তোমাকেভাল ডাক্তার দেখানো হবে। আগের মত তোমার শারীরিক ক্ষতি যাতে না হয়। সে বিষয়টি ফরহাদ মজহার গুরুত্ব সহকারেদেখছেন। ইতিমধ্যে অর্চনা রানীর বাবা অসুস্থ হয়েছেন। বাবার চিকিৎসার জন্য অর্চনা রানীর দরকার অনেক টাকা। ফরহাদমজাহারের কাছে সেই পরিমাণ অর্থ নেই। অবশেষে অর্থের নেপথ্যে ফরহাদ মজহারের অপহরণের নাটক। এ নাটক ছিলতার পরিবারের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা আদায় করা।

অর্চনা রানীর দেওয়া তথ্য, কথপোকথন রেকর্ড ও বিভিন্ন তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হন যে ফরহাদমজহারের অপহরণের ঘটনা “সাজানো নাটক।” ঘটনার দিন সকাল ১১টার দিকে ফরহাদ মজহার স্ত্রীকে ফোন করে বলেন, ৩০ লাখ টাকা তোমার কাছে রেখে দিও এবং তোমার কাছে ঐ টাকা চাইলে বলবে ডেলিভার হয়ে গেছে। ফিরে এসেবাকিটা দেখব। খুলনা গিয়ে তিনি নিউমার্কেটে (খুলনা) গেছেন ও বের হয়েছেন। ঐ দিন সন্ধ্যায় খুলনা থেকে অর্চনারানীকে তার দুইটি নম্বরের প্রথম দফা ১৩ হাজার টাকা ও দ্বিতীয় দফায় দুই হাজার টাকা পাঠিয়েছেন ফরহাদ মজহার।সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৮ মিনিট ও সন্ধ্যা সাতটা ১৯ মিনিট। বাসের টিকেট নিজে ক্রয় করেছেন। তারও প্রমাণ তদন্তকারীকর্তৃপক্ষের হাতে। তার কথিত অপহরণের সময় মাইক্রোবাসের কথা বলা হলেও ঐ মাইক্রোবাসের কোন হদিস পাওয়া যায়নি।

সর্বাধিক ক্লিক