English

শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ২০, আটক শতাধিক

০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০৬:৫৭

প্রথম বাংলা : নগরীর স্টেশন রোড এলাকায় এশিয়ান অ্যাপারেলস লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১২ জন পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ কয়েকজন পুরুষ শ্রমিকসহ শতাধিক নারী শ্রমিককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।পুলিশ ও শ্রমিক সূত্র জানায়, তিন মাস আগে এশিয়ান অ্যাপারেলস পোশাক কারখানাটির স্টেশন রোড শাখার কার্যক্রম কাট্টলিতে করা নতুন শাখায় স্থানান্তর করা হয়। শ্রমিকদের অভিযোগ ওই এলাকার বেশ কিছু বহিরাগত যুবক নারী শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছিল। এই কারণে তারা স্টেশন রোড শাখায় কারখানার কার্যক্রম পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়ে আসছিল।পাশাপাশি বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিও ছিল। এসব দাবির প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার স্টেশন রোড এলাকায় ওই প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থান নেয় শ্রমিকরা। বুধবার ১২টায় মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলতে আসার অনুরোধ জানিয়ে ওইদিন পুলিশ তাদের সেখান থেকে তুলে দেয়।কিন্তু বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শ্রমিকরা সড়কের উপর অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। এসময় তাদের সরিয়ে দিতে চাইলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে শ্রমিকরা। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে পার্কিং করে রাখা একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। পুলিশ অ্যাকশনে গিয়ে টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।পুলিশের ধাওয়া খেয়ে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে গিয়ে অবস্থান নেয়। এসময় পুলিশ মাইকিং করে শ্রমিকদের কারখানার ভেতর থেকে বের হতে নিষেধ করে।পরে পুলিশ শ্রমিকদের বের করে এনে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায়। এসময় শ্রমিকরা কান্নাকাটি করতে থাকে। শ্রমিক অসন্তোষ থামাতে অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য ছাড়াও র‌্যাবের সদস্যরা অংশ নেন। সংঘর্ষে নগর পুলিশের কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার আবদুর রহিম, কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিনসহ ১২জন পুলিশ সদস্য আহত হন। অন্যদিকে ৮-১০ জন শ্রমিক আহত হন। এদের মধ্যে কয়েকজনের মাথা ও কপালে গুরতর জখম দেখা গেছে। ঘটনাস্থল দিয়ে যাওয়ার সময় শরীরে গুলির ছররা বিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন অ্যাডভোকেট টি আর খান।এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় নিউমার্কেট মোড় থেকে পুরাতন স্টেশন রোড এলাকায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে রাস্তার উভয়পাশে যানজট সৃষ্টি হয়।কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে সড়ক অবরোধ করছিল। এসময় সরিয়ে দিতে চাইলে তারা আমাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু শ্রমিকদের আটক করা হয়েছে।ঘটনার সময় মালিক পক্ষের কাউকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। তবে সফর আলীসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক নেতা ঘটনাস্থলে আসেন।শ্রমিক নেতা সফর আলী সাংবাদিকদের বলেন, আমি পুরো ঘটনা জানি না। খবর পেয়ে আসলাম। এ বিষয়ে আমরা মালিক-শ্রমিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলবো। দ্রুত শ্রমিকদের জামিনের ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা চাই যেকোন মূল্য কারখানাগুলো চালু থাকুক। শ্রমিকরা

সর্বাধিক ক্লিক