ঈদে মিলাদুন্নবী
অন্ধকারে ডুবেছিল দুনিয়া,
অন্যায়-অবিচারে ভরা চারদিক,
কন্যাশিশু কবর হতো জীবন্ত,
নারী ছিল অবমাননার প্রতীক।
শক্তিমান গলধঃকরণ করত দুর্বল,
আইন, ন্যায়, ইনসাফ ছিল অচল,
মূর্তিপূজার অরণ্যে হারিয়েছিল মানুষ,
অমানবিকতার ছিল মহাসড়ক চল।
ঠিক সেই সময়ে প্রভাতের আলো,
মক্কার বুকে নেমে এলো দিশারী,
রহমাতুল্লিল আলামীন নবী—
মুহাম্মদ মুস্তাফা, বিশ্বমানবের আধারী।
আল-আমিন, আস-সাদিক নামে খ্যাত,
শৈশবেই সত্যের পথে অটল,
ন্যায়, সততা, দয়া, ক্ষমা
ছিল তাঁর চরিত্রের উজ্জ্বল ফল।
নারীর সম্মান তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন,
শিশুর প্রতি রাখলেন মমতা,
দাসকে মুক্তির স্বপ্ন দেখালেন,
অসহায় পেল সেবা আর সহানুভূতি।
তাঁর বুকে নেমে এলো ওহীর আলো,
মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের দিশা,
তাওহীদের বাণী প্রচার করে
দূর করলেন জাহেলিয়াতের বিষা।
তিনি শিখালেন—
মানুষ মানুষে ভ্রাতৃত্ব হোক,
ন্যায়বিচারে হোক সমান মর্যাদা,
গরীব-দুঃখীর পাশে দাঁড়ানোই
হোক প্রকৃত দীনদারির সাধনা।
আজ আমরা উদযাপন করি এই দিন,
বারো রবিউল আউয়ালের পবিত্র ক্ষণ,
যে ক্ষণে পৃথিবী পেল দিশারী নবী,
যার আগমণ হলো রহমতের ঘোষণা।
ঈদে মিলাদুন্নবী শুধু আনন্দ নয়,
এ শিক্ষা, আত্মশুদ্ধির আহ্বান,
নবীর পথে চলাই মুক্তির পথ,
তাঁর আদর্শেই লুকিয়ে আছে জান্নাতের মান।
হে আল্লাহ! আমাদের দাও সেই তৌফিক,
নবীর প্রতি ভালোবাসা দাও অন্তরে,
তাঁর সুন্নাহ হোক জীবনের দিশারি,
তাঁর দরুদ-সালাম ঝরুক নিঃশ্বাসে প্রতিক্ষণে।
হে বিশ্বনবী, আমাদের প্রিয় হাবিব,
তোমার শিক্ষা হোক আলো প্রতিদিন,
ঈদে মিলাদুন্নবীর শুভক্ষণে আজ
সারা দুনিয়া ভরে উঠুক শান্তি-প্রশান্তির সুরে

