“ভোক্তা হলে সচেতন, বন্ধ হবে অনিয়ম” – সচেতন নাগরিক গড়তে ব্যাপক আহ্বান
নোয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো আঞ্চলিক ভোক্তা অধিকার সম্মেলন-২০২৫। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় আয়োজিত এই সম্মেলনে নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলার ভোক্তা অধিকার কর্মী, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “ভোক্তা হলে সচেতন, বন্ধ হবে অনিয়ম”। দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯, নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩, বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা, ভেজাল প্রতিরোধ কার্যক্রম এবং ভোক্তা আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভাপতিত্ব ও প্রধান অতিথি:-
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালী জেলা কোঅর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক খালেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন –
> “ভোক্তা অধিকার বাস্তবায়ন শুধু সরকারের কাজ নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। সবাই সচেতন হলে বাজারে ভেজাল ও প্রতারণা অনেকাংশে বন্ধ করা সম্ভব।”
বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য:
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোক্তা অধিকার দপ্তর নোয়াখালী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এর সহকারী পরিচালক আসাদুল ইসলাম এবং নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শামসুল আরেফিন। তারা মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও আইনগত পদক্ষেপের ওপর আলোকপাত করেন এবং বলেন, অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা ও দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে হটলাইন ও অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা হয়েছে।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন:
সিসিএস কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য দেলোয়ার হোসেন মুন্না, লক্ষ্মীপুর জেলা কোঅর্ডিনেটর আবুল হাসান সোহেল, সিওয়াইবি সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার সহসভাপতি ইকবাল হোসেন, নোয়াখালী কলেজ সভাপতি মাজহারুল ইসলাম রাকিবসহ তিন জেলার প্রতিনিধিরা।
ক্যারিয়ার ও সচেতনতা সেশন,
দিনব্যাপী সম্মেলনে ক্যারিয়ার বিষয়ক বিশেষ সেশন পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক ড. মমিন। তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন,
> “ভোক্তা অধিকার রক্ষায় তরুণদের অংশগ্রহণ জরুরি। তারা যদি সামাজিক মিডিয়া, গবেষণা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে যুক্ত হয়, তাহলে আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ খাদ্য ও সেবার নিশ্চয়তা তৈরি হবে।”
আলোচনার মূল বিষয়
সম্মেলনে আলোচকরা জানান—
বাজারে ভেজাল প্রতিরোধে সমন্বিত মনিটরিং টিমের প্রয়োজন।
ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি শক্তিশালী করা জরুরি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সচেতনতা ক্যাম্পেইন চালানো উচিত, যাতে নতুন প্রজন্ম ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে শিখতে পারে।
নকল ও নিম্নমানের পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সার্বিক গুরুত্ব্
বক্তারা একমত হন যে, আইন থাকলেও কার্যকর প্রয়োগ না হলে সাধারণ মানুষ প্রতারণা, ভেজাল ও অতিরিক্ত দামের শিকার হতে থাকবে। তারা ব্যবসায়ী মহলকেও নৈতিকতা মেনে চলার আহ্বান জানান এবং সরকারকে নিয়মিত বাজার তদারকি বাড়ানোর সুপারিশ করেন।
সম্মেলনের শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করেন—যেখানে তারা প্রতিশ্রুতি দেন যে ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানাবেন এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।

