
বিএনপির নারী সংগঠন দুর্বলতায় সুবিধা নিচ্ছে জামায়াত:
নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের শঙ্কা:
ফজলুল হক মুন্না:
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারী সংগঠনের ভূমিকা দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। জাতীয় নির্বাচনে নারী ভোটারদের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক হওয়ায় যেকোনো দলই নারী সমাজকে উপেক্ষা করার সুযোগ রাখে না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাম, পাড়া ও মহল্লা পর্যায়ে বিএনপির নারী সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই সুযোগকে জামায়াতে ইসলামি তাদের নারী সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ধর্মীয় আবেগকে হাতিয়ার করে নারীদের কাছে পৌঁছাতে জামায়াত রুটিন ওয়ার্কের মতো নিয়মিত কার্যক্রম চালাচ্ছে, যা বিএনপির জন্য ভবিষ্যৎ নির্বাচনে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অতীত ইতিহাস: নারী সংগঠনে বিএনপির ভূমিকা:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নারী সমাজকে রাজনীতির মূলধারায় আনার চেষ্টা করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নিজেই দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর সময়েই জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, ছাত্রদলের ভেতরে ছাত্রী শাখা এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনে নারীদের সম্পৃক্ততা বেড়ে যায়।
২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ে নারীদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গ্রামীণ সমাজে বিএনপির নারী সংগঠনের শক্তি ছিল একটি প্রধান ভরসা। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এবং বিশেষ করে ২০১৪ সালের পর থেকে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা শুরু হয়। দীর্ঘদিন আন্দোলনে ব্যস্ত থাকায় নারী সংগঠনের প্রতি মনোযোগ কমে যায়।
অন্যদিকে জামায়াত ইসলামি তাদের নারী সংগঠনকে আলাদা কাঠামোতে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তুলছে। বিশেষ করে গ্রামীণ নারী সমাজের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা ও আবেগকে কেন্দ্র করে তারা শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করেছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপট: দুর্বল বিএনপি, শক্তিশালী জামায়াত:
বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, গ্রামে গ্রামে বিএনপির নারী সংগঠনের কার্যক্রম প্রায় স্থবির। ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, মহল্লা পর্যায়ে মহিলা দল কিংবা স্বেচ্ছাসেবক দলের নারী শাখা কার্যত সক্রিয় নেই।
অপরদিকে জামায়াত ইসলামির নারী সংগঠন নিয়মিতভাবে মিটিং, কুরআন শিক্ষা, সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম, দাওয়াতি কার্যক্রম চালাচ্ছে। ফলে সাধারণ নারীদের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে স্বল্পশিক্ষিত বা ধর্মীয় অনুভূতিপ্রবণ নারীদের কাছে জামায়াত নারী সংগঠন সহজেই প্রভাব বিস্তার করতে পারছে।
তৃণমূল নেতাদের মতে, “ধর্মের দিতে অনুভূতি নারীদের দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে জামায়াত। বিএনপির নারী সংগঠন যদি সক্রিয় না হয় তবে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির নারী ভোটব্যাংক ভেঙে যাবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে নির্বাচনে নারী ভোটারদের ভূমিকা ক্রমবর্ধমান। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ পুরুষ ভোটারদের চেয়ে বেশি ছিল। ফলে যে দল নারীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করবে, তারাই নির্বাচনী লড়াইয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“নারী সমাজকে উপেক্ষা করলে কোনো দলই টিকবে না। বিএনপি বর্তমানে আন্দোলনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, কিন্তু সংগঠন পুনর্গঠনে অবহেলা করছে। এর ফলে জামায়াত ধীরে ধীরে মাঠ দখল করছে।”
আরেকজন সিনিয়র সাংবাদিক বলেন,
“জামায়াতের নারী সংগঠন সবসময়ই সুসংগঠিত। তাদের মূল শক্তি হলো ধর্মভিত্তিক আবেগ। অন্যদিকে বিএনপির নারীরা রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির কারণে নিরুৎসাহিত হয়েছেন। কেন্দ্র থেকে যদি দৃঢ় নির্দেশনা না আসে, তবে মাঠে বিএনপির নারীরা আর টিকে থাকতে পারবে না।”
ভোটের প্রভাব:
বাংলাদেশে নারী ভোটার সংখ্যা প্রায় ৫ কোটির মতো। এই বিশাল ভোটব্যাংককে নিয়ন্ত্রণ করা মানে নির্বাচনে জয়লাভের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যাওয়া।
গ্রামীণ এলাকায় নারী ভোটারদের মধ্যে ধর্মীয় আবেগ, সামাজিক রীতিনীতি ও পারিবারিক সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা রাখে। জামায়াত তাদের নারী সংগঠনের মাধ্যমে এ আবেগকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করছে। তারা নারীদের ধর্মীয় শিক্ষা, হিজাব, সামাজিক সহায়তা, চিকিৎসা ও দাওয়াতি প্রোগ্রামের মাধ্যমে আকৃষ্ট করছে।
বিএনপি যদি নারী সংগঠন শক্তিশালী করতে না পারে, তবে নির্বাচনে নারীদের বড় অংশ জামায়াত বা ইসলামী প্রভাবিত প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকতে পারে। এর ফলে বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংক ভেঙে পড়বে।
নারী সংগঠন: শুধু ভোট নয়, আন্দোলনেরও শক্তি:
নারীরা শুধু ভোটের সময় নয়, আন্দোলনের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনে, ২০১৩ সালের হেফাজতের আন্দোলন কিংবা ২০১৮ সালের বিভিন্ন আন্দোলনেও নারীদের অংশগ্রহণ ছিল।
বিএনপির তৃণমূল কর্মীরা মনে করেন, নারী সংগঠন শক্তিশালী হলে তা শুধু নির্বাচনী ক্ষেত্রেই নয়, আন্দোলনের সময়ও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। নারীরা মাঠে নামলে আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা বেড়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তা বেশি গুরুত্ব পায়।
দলীয় গ্রুপিং: আরেকটি বড় সমস্যা:
নারী সংগঠনের দুর্বলতার পাশাপাশি বিএনপির আরেকটি বড় সমস্যা হলো অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং। ৫ আগস্টের পর থেকে অনেক এলাকায় এই গ্রুপিং প্রকাশ্যে দেখা দেয়। এর ফলে সাধারণ মানুষের কাছে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
তৃণমূল নেতাদের মতে, দলীয় গ্রুপিং সৃষ্টি করে অনেক সময় নিজেদের লোকজনের মধ্যেই সংঘর্ষ হচ্ছে। এতে করে সাধারণ সমর্থকেরা হতাশ হচ্ছেন এবং বিএনপির প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন।
তারা প্রস্তাব দিয়েছেন, গ্রুপিং সৃষ্টিকারী নেতাদের আমলনামা সংরক্ষণ করতে হবে এবং তাদের ভেতরে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তৃণমূলের পরামর্শ
১. নারী সংগঠনকে গ্রাম, পাড়া ও মহল্লা পর্যায়ে শক্তিশালী করতে হবে।
২. কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে নারী কর্মীদের সংগঠিত করা জরুরি।
৩. দলীয় গ্রুপিং বন্ধ করতে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।
৪. নারী ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে।
৫. তৃণমূলের ত্যাগী নেতাদের মতামত গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর ভূমিকা দিন দিন বেড়ে চলেছে। বিএনপি যদি এখনই নারী সংগঠনকে শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ না দেয়, তবে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে তাদের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। জামায়াত ইতোমধ্যেই মাঠে প্রভাব বিস্তার শুরু করেছে, যা বিএনপির জন্য অশনিসংকেত।
তৃণমূল কর্মীরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, সংগঠন পুনর্গঠন, নারী শক্তি জাগ্রত করা এবং অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়া বিএনপির সামনে সামনে এগোনোর পথ নেই।
“আসসালামু আলাইকুম। আল্লাহ সহায় হউন।” — এভাবেই তৃণমূল নেতারা তাঁদের গোপন মতামত শেষ করেছেন, যা মূলত দলের ভবিষ্যতের প্রতি তাঁদের আন্তরিক উদ্বেগের,
বিএনপির নারী সংগঠন দুর্বলতায় সুবিধা নিচ্ছে জামায়াত:
নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের শঙ্কা:
ফজলুল হক মুন্না:
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারী সংগঠনের ভূমিকা দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। জাতীয় নির্বাচনে নারী ভোটারদের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক হওয়ায় যেকোনো দলই নারী সমাজকে উপেক্ষা করার সুযোগ রাখে না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাম, পাড়া ও মহল্লা পর্যায়ে বিএনপির নারী সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই সুযোগকে জামায়াতে ইসলামি তাদের নারী সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ধর্মীয় আবেগকে হাতিয়ার করে নারীদের কাছে পৌঁছাতে জামায়াত রুটিন ওয়ার্কের মতো নিয়মিত কার্যক্রম চালাচ্ছে, যা বিএনপির জন্য ভবিষ্যৎ নির্বাচনে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অতীত ইতিহাস: নারী সংগঠনে বিএনপির ভূমিকা:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নারী সমাজকে রাজনীতির মূলধারায় আনার চেষ্টা করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নিজেই দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর সময়েই জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, ছাত্রদলের ভেতরে ছাত্রী শাখা এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনে নারীদের সম্পৃক্ততা বেড়ে যায়।
২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ে নারীদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গ্রামীণ সমাজে বিএনপির নারী সংগঠনের শক্তি ছিল একটি প্রধান ভরসা। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এবং বিশেষ করে ২০১৪ সালের পর থেকে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা শুরু হয়। দীর্ঘদিন আন্দোলনে ব্যস্ত থাকায় নারী সংগঠনের প্রতি মনোযোগ কমে যায়।
অন্যদিকে জামায়াত ইসলামি তাদের নারী সংগঠনকে আলাদা কাঠামোতে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তুলছে। বিশেষ করে গ্রামীণ নারী সমাজের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা ও আবেগকে কেন্দ্র করে তারা শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করেছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপট: দুর্বল বিএনপি, শক্তিশালী জামায়াত:
বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, গ্রামে গ্রামে বিএনপির নারী সংগঠনের কার্যক্রম প্রায় স্থবির। ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, মহল্লা পর্যায়ে মহিলা দল কিংবা স্বেচ্ছাসেবক দলের নারী শাখা কার্যত সক্রিয় নেই।
অপরদিকে জামায়াত ইসলামির নারী সংগঠন নিয়মিতভাবে মিটিং, কুরআন শিক্ষা, সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম, দাওয়াতি কার্যক্রম চালাচ্ছে। ফলে সাধারণ নারীদের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে স্বল্পশিক্ষিত বা ধর্মীয় অনুভূতিপ্রবণ নারীদের কাছে জামায়াত নারী সংগঠন সহজেই প্রভাব বিস্তার করতে পারছে।
তৃণমূল নেতাদের মতে, “ধর্মের দিতে অনুভূতি নারীদের দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে জামায়াত। বিএনপির নারী সংগঠন যদি সক্রিয় না হয় তবে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির নারী ভোটব্যাংক ভেঙে যাবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে নির্বাচনে নারী ভোটারদের ভূমিকা ক্রমবর্ধমান। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ পুরুষ ভোটারদের চেয়ে বেশি ছিল। ফলে যে দল নারীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করবে, তারাই নির্বাচনী লড়াইয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“নারী সমাজকে উপেক্ষা করলে কোনো দলই টিকবে না। বিএনপি বর্তমানে আন্দোলনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, কিন্তু সংগঠন পুনর্গঠনে অবহেলা করছে। এর ফলে জামায়াত ধীরে ধীরে মাঠ দখল করছে।”
আরেকজন সিনিয়র সাংবাদিক বলেন,
“জামায়াতের নারী সংগঠন সবসময়ই সুসংগঠিত। তাদের মূল শক্তি হলো ধর্মভিত্তিক আবেগ। অন্যদিকে বিএনপির নারীরা রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির কারণে নিরুৎসাহিত হয়েছেন। কেন্দ্র থেকে যদি দৃঢ় নির্দেশনা না আসে, তবে মাঠে বিএনপির নারীরা আর টিকে থাকতে পারবে না।”
ভোটের প্রভাব:
বাংলাদেশে নারী ভোটার সংখ্যা প্রায় ৫ কোটির মতো। এই বিশাল ভোটব্যাংককে নিয়ন্ত্রণ করা মানে নির্বাচনে জয়লাভের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যাওয়া।
গ্রামীণ এলাকায় নারী ভোটারদের মধ্যে ধর্মীয় আবেগ, সামাজিক রীতিনীতি ও পারিবারিক সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা রাখে। জামায়াত তাদের নারী সংগঠনের মাধ্যমে এ আবেগকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করছে। তারা নারীদের ধর্মীয় শিক্ষা, হিজাব, সামাজিক সহায়তা, চিকিৎসা ও দাওয়াতি প্রোগ্রামের মাধ্যমে আকৃষ্ট করছে।
বিএনপি যদি নারী সংগঠন শক্তিশালী করতে না পারে, তবে নির্বাচনে নারীদের বড় অংশ জামায়াত বা ইসলামী প্রভাবিত প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকতে পারে। এর ফলে বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংক ভেঙে পড়বে।
নারী সংগঠন: শুধু ভোট নয়, আন্দোলনেরও শক্তি:
নারীরা শুধু ভোটের সময় নয়, আন্দোলনের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনে, ২০১৩ সালের হেফাজতের আন্দোলন কিংবা ২০১৮ সালের বিভিন্ন আন্দোলনেও নারীদের অংশগ্রহণ ছিল।
বিএনপির তৃণমূল কর্মীরা মনে করেন, নারী সংগঠন শক্তিশালী হলে তা শুধু নির্বাচনী ক্ষেত্রেই নয়, আন্দোলনের সময়ও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। নারীরা মাঠে নামলে আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা বেড়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তা বেশি গুরুত্ব পায়।
দলীয় গ্রুপিং: আরেকটি বড় সমস্যা:
নারী সংগঠনের দুর্বলতার পাশাপাশি বিএনপির আরেকটি বড় সমস্যা হলো অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং। ৫ আগস্টের পর থেকে অনেক এলাকায় এই গ্রুপিং প্রকাশ্যে দেখা দেয়। এর ফলে সাধারণ মানুষের কাছে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
তৃণমূল নেতাদের মতে, দলীয় গ্রুপিং সৃষ্টি করে অনেক সময় নিজেদের লোকজনের মধ্যেই সংঘর্ষ হচ্ছে। এতে করে সাধারণ সমর্থকেরা হতাশ হচ্ছেন এবং বিএনপির প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন।
তারা প্রস্তাব দিয়েছেন, গ্রুপিং সৃষ্টিকারী নেতাদের আমলনামা সংরক্ষণ করতে হবে এবং তাদের ভেতরে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তৃণমূলের পরামর্শ
১. নারী সংগঠনকে গ্রাম, পাড়া ও মহল্লা পর্যায়ে শক্তিশালী করতে হবে।
২. কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে নারী কর্মীদের সংগঠিত করা জরুরি।
৩. দলীয় গ্রুপিং বন্ধ করতে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।
৪. নারী ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে।
৫. তৃণমূলের ত্যাগী নেতাদের মতামত গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর ভূমিকা দিন দিন বেড়ে চলেছে। বিএনপি যদি এখনই নারী সংগঠনকে শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ না দেয়, তবে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে তাদের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। জামায়াত ইতোমধ্যেই মাঠে প্রভাব বিস্তার শুরু করেছে, যা বিএনপির জন্য অশনিসংকেত।
তৃণমূল কর্মীরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, সংগঠন পুনর্গঠন, নারী শক্তি জাগ্রত করা এবং অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়া বিএনপির সামনে সামনে এগোনোর পথ নেই।
“আসসালামু আলাইকুম। আল্লাহ সহায় হউন।” — এভাবেই তৃণমূল নেতারা তাঁদের গোপন মতামত শেষ করেছেন, যা মূলত দলের ভবিষ্যতের প্রতি তাঁদের আন্তরিক উদ্বেগের,

