হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজঃগত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬শনিবার,সাংবাদিকদের একটি আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে দেশ বিদেশের শতাধিক সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে প্রধান অতিথি হিসাবে যুক্ত হয়ে বলেন, বানরের পিঠা ভাগের এই পাতানো নির্বাচন বয়কট করে নিঃশব্দ বিপ্লব ঘটাবো।খবর আইবিএননিউজ।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মুজতবা ধ্রুবের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র সাংবাদিক শফিক বাবু’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এ্যাডঃ শিহাব উদ্দিন শাহীন, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, ঝর্ণা হাসান,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড.জিএম তরিকুল ইসলাম, ভারতের সিনিয়র সাংবাদিক নীল বনিক, যুক্তরাষ্ট্র শাখা বাংলাদেশের আলো পত্রিকার প্রতিনিধি আহাম্মেদ রাসেল,যুক্তরাজ্য আ,লীগ নেতা ও সাংবাদিক সাদেক খান, খোন্দকার তারেক রায়হান সহ ৭১’র মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধার সহধর্মিণী সোমা রাণীশ্রী রায়।এছাড়াও দেশ-বিদেশের শতাধিক সাংবাদিক প্রতিনিধি ভার্চুয়ালী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ওবায়দুল কাদের তাঁর বক্তব্যের শুরুতে, উপস্থিত সকল সাংবাদিক বন্ধুদের বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
ওবায়দুল কাদের দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমাকে নিয়ে বাংলাদেশের মিডিয়ায় যে সকল বানোয়াট,মিথ্যা বক্তব্য এসেছে তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন যারা আমার নামে দুর্নাম করছে তাদেরকে তা করতে দেন। কারণ আমিও দীর্ঘকাল সাংবাদিকতা করেছি। বিকৃত বক্তব্যের বিষয়ে পাবলিক “মতামত” মানুষ ভালো ভাবে বুঝতে পারে। কারণ একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ব্যক্তিগত বিষয় ও রাজনৈতিকের অংশ এটা অনুধাবন করেই বুঝতে হয় এবং সাংবাদিকতার মতো মহান পেশা পালন করতে হয়। তিনি তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন,এ দেশে ক্ষমতার রাজনীতি মনে হয় একটা অপরাধ। কারণ সরকারের যেই কোন ব্যক্তি লুটপাট কারী খুনি হয়না। এই সব বিষয় গুলো হজম করা খুবই কষ্টকর। যে ব্যাক্তি কাউকে কোনদিন খুন করেননি অথচ তাকেও খুনি বানানো হয়,এটা শুধু কষ্ট নয়,ভাবতেও খুবই অবাক লাগে! আজকে নতুন নতুন কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাদের অশ্রাব্য মুখের ভাষা শুনতে কেমন লাগে? সমালোচনা থাকতে পারে কিন্তু অশ্রাব্য ভাষার সংস্কৃতি রাজনীতিকে যে ভাবে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরেছে এবং যেই অশোভন আচরন করা হচ্ছে এটা রাজনীতির জন্য অশনি সংকেত।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ১৮ ঘন্টা কর্মময় জীবনের কথা বলতে গিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন,তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, কোরআন তেলওয়াত করেন। রাত ১টার সময়ও তিনি ফাইল দেখতেন, বাংলাদেশের সকল বিষয়ে তিনি অবগত। ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও দেশের দারিদ্র্য কবলিত প্রায় চার কোটি মানুষকে মানবেতর অবস্থা থেকে উত্তোলন করেন শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকার। যার প্রমাণ একটি বাড়ি একটি খামার। ভূমিহীনদের মাঝে জমি দিয়ে মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করেছেন আওয়ামী লীগ সরকার। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, অবৈধ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বানিজ্য উপদেষ্টার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি নিজ কানে শুনেছি যে তিনি বলেছেন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থেকে যাওয়ার সময় বিদেশী ঋন দেনা ২ লক্ষ কোটি টাকা, আর এখন এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৬ মাসে ৪ লক্ষ কোটি টাকা ঋনের বোঝা, এটা ভাবা যায়?
ওবায়দুল কাদের বিএনপি নেতা তারেক রহমানের কথা প্রসঙ্গে বলেন তিনি প্রথমে দেশে এসে আ,লীগ সরকারের উন্নয়নের অংশ হিসেবে মেট্রোরেল,এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মাসেতু, সারাদেশে ফ্লাইওভার, ফোরলেন সহ অভূতপূর্ব উন্নয়ন দেখে হতচকিতঃ হলেও পক্ষান্তরে বলতে শুনেছি এগুলো লুটপাট করে করা হয়েছে!
সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, তথাকথিত প্রহসন মূলক নির্বাচনের কান্ডারী ভন্ড ইউনুস ৫ আগষ্ট ২০২৪’র আগে এবং পরে যেই জঙ্গি তৎপরতা চালিয়ে হাজার হাজার পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের খুন করেছে এবং দেশের মানুষকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মামলা হামলা মব জাষ্টটিজ, মব ভায়োলেন্স করে দেশকে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে নিয়ে কিংস পার্টি গঠন করেছে। জঙ্গি গোষ্ঠী জামায়াতে ইসলামী ও খালেদা জিয়ার বিএনপিকে নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা পাকাপোক্ত ভাবে দখল করার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ ১২ ফেব্রুয়ারির তথাকথিত নির্বাচন।এই নির্বাচন কতটুকু গ্রহনযোগ্য ও শান্তি পূর্ণ হবে তা সহজেই অনুমেয়।ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন রেখে বলেন,লুট হওয়া অস্র কতো পার্সন উদ্ধার হয়েছে? পাকিস্তানী আইএস জঙ্গিরা সারাদেশে ভারী আগ্নেয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিয়েছে! ক্ষমতার স্বর্থে ইউনুসের আদর্শিক কিছু রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে সুকৌশলে বাহিরে রেখে ” বানরের পিঠা ভাগাভাগি ও পাতানো নির্বাচন ” এর জন্য প্রশাসন ও সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত করে রেখেছে । নির্বাচনের নিয়ম কানুন, রীতিনীতি আচরণ দুই জোটের কেহই মানছেনা।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারেক রহমানের ‘৭১ আর, আওয়ামী লীগের ‘৭১ এক সাথে যায়না। আবার বর্তমানে স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণাকারী হিসাবে কর্ণেল অলি আহামদকে চিহ্নিত করা হয়েছে। জামায়াত সহ তাদের দুইটি জোটের রাজনৈতিক কেবলা একই জায়গায়, ঐ সেই পাকিস্তান। তিনি আরও বলেন,তারা বহুকাল যাবৎ একে অন্যের পরিপূরক ও ক্ষমতার অংশীদার । বিএনপি যখন ক্ষমতায় তখন জামায়াত ও জঙ্গি গোষ্ঠীর সহযোগিতায় ১০ ট্রাক অস্ত্র ও ২১শে আগষ্টের কথা দেশবাসী এখনো ভুলিনি। বেগম আইভি রহমান সহ সেদিন ২৩ টি তাজা প্রাণ শেষ হয়। হরকাতুল জেহাদ জজ মিয়ার নাটক দেশবাসী ভূলে যায়নি। তিনি বলেন, আ,লীগের প্রশ্নে তাদের জুজুর ভয়, তাই তারা আ,লীগকে নিষিদ্ধ ও ঠেকানোর প্রশ্নেই নাটকীয়তায় ভরা ১৫ ফেব্রুয়ারির এই পাতানো নির্বাচন। কারণ তারা জানে আওয়ামী লীগ নির্বাচন করলে জয় লাভ করবে, তাই ইউনুস গংরা আওয়ামী লীগের প্রশ্নে এক ও অভিন্ন। পাতানো এই নির্বাচন সম্পূর্ণ বাংলাদেশের সংবিধান ও আচরণের পরিপন্থী বলেও স্পষ্ট করেন ওবায়দুল কাদের । ইউনুস এনসিপি জামায়াত ও জঙ্গি গোষ্ঠীকে নিয়ে সারাদেশের কেন্দ্রে কেন্দ্রে লাঠি, অস্ত্র, বোরকা বাহিনী ও টোকাই সেট করেছে।
সাংবাদিকদের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন রেখে বলেন, প্রার্থীদের একটা বড় অংশ ঋন খেলাপী এরা যখন সংসদে যাবে তখন তারা কোন্ নতুন বাংলাদেশ গড়বে? তা দেশবাসী ভালোভাবেই জানেন। জামাতের নেতারা বলে “নিরাপদ বাংলাদেশ গড়বে”। অথচ তাদের ৭১’র ভূমিকা এখনো জাতি ভুলেনি।দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত, ত্রিশ লক্ষ শহীদদের রক্তের দাগ এখনো তাদের হাতে লেগে আছে। বিএনপি’র হাওয়া ভবন, খাম্বা, ১০ ট্রাক অস্ত্র এবং ৫ আগষ্ট ২০২৫ পরবর্তী সারাদেশে লুটপাট দখল এই চরিত্র থেকে কি কখনো তারা ফিরে আসতে পারবে ? কখনো পারবে না।
অস্বাভাবিক মৃত্যু, কারাগারের গেইটে মৃতদেহ তবুও সাদ্দামকে মুক্তি দেয়া হয়নি। জেলের অভ্যন্তরে কি নির্মম অত্যাচার নির্যাতন চলছে!
আওয়ামী লীগের করণীয় বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দু-চার জন পরিস্থিতির চাপে এদিক সেদিক হতে পারে। কিন্তু সাগরের জলরাশীর দু,চার ফোটা জল এদিক সেদিক হলেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামক বিশাল সাগরের কিছুই টলবেনা। তাই আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক মুক্তির বাংলাদেশে আমরা ম্যাটিকূলাস ডিজাইনে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলকারী ভন্ড তপস্বী ইউনুসের এই বানরের পিঠা ভাগের পাতানো নির্বাচন বয়কট করে নিঃশব্দে বিপ্লব ঘটাবো বলে দৃঢ়চিত্তে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

