ঢাকাThursday , 4 September 2025
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জনপ্রিয় সংবাদ
  9. জাতীয়
  10. বিনোদন
  11. রাজধানী
  12. রাজনীতি
  13. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈদে মিলাদুন্নবী মুসলিম উম্মাহর কাছে এক মহিমান্বিত দিন। এ দিনেই দুনিয়ার অন্ধকার ভেদ করে মানবতার মুক্তির দূত, শেষ নবী, রহমাতুল্লিল আলামীন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন। মানব জাতির ইতিহাসে এর চেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ, মর্যাদাবান ও আনন্দঘন দিন আর নেই।

Link Copied!

ঈদে মিলাদুন্নবী মুসলিম উম্মাহর কাছে এক মহিমান্বিত দিন। এ দিনেই দুনিয়ার অন্ধকার ভেদ করে মানবতার মুক্তির দূত, শেষ নবী, রহমাতুল্লিল আলামীন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন। মানব জাতির ইতিহাসে এর চেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ, মর্যাদাবান ও আনন্দঘন দিন আর নেই। কারণ, তাঁর আগমণের মধ্য দিয়ে দুনিয়া পেয়েছিল সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের দিশা। তিনি এসেছিলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার হিসেবে, যিনি শুধু আরবের জন্য নন, বরং সমগ্র জাহানবাসীর জন্য রহমত হয়ে আগমন করেছিলেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের আগে গোটা আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নেমে এসেছিল অজ্ঞতার ঘোর অন্ধকার। সেই সময় সমাজে ছিল অবিচার, অরাজকতা ও পশুত্ব। কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো, নারীরা ছিল অবমানিত, দাসদের কোনো অধিকার ছিল না। শক্তিশালী দুর্বলের উপর অন্যায় অত্যাচার চালাতো, কোনো আইনকানুন কার্যকর ছিল না। চারদিকে বিরাজ করত মূর্তিপূজা, কুসংস্কার, মদ্যপান, জুয়া আর ব্যভিচার। হত্যাযজ্ঞ, যুদ্ধবিগ্রহ, রক্তপাত ছিল প্রতিদিনের ঘটনা। মানব সভ্যতা তখন অন্ধকারের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত। ঠিক এই ভয়ঙ্কর সময়ে মানবতার মুক্তির দূত হিসেবে আল্লাহ প্রেরণ করেন তাঁর প্রিয়তম রাসুল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে।

তাঁর জন্ম মক্কার কুরাইশ বংশের মর্যাদাবান পরিবারে। তাঁর জন্মের আগমণ ছিল এক আলোকোজ্জ্বল বিস্ময়। যেন অন্ধকার রাত্রির বুকে উদিত প্রভাতের সূর্য। তিনি এসেছিলেন মানবতার মুক্তি ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে সমগ্র জাহানবাসীর জন্য রহমত বানিয়ে পাঠিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন: “আমি আপনাকে সমগ্র জাহানবাসীর জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছি।” (সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭)। এ আয়াতই প্রমাণ করে, তাঁর জীবন, তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্য নয়, বরং বিশ্বমানবতার কল্যাণের জন্য।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন মানব সমাজকে দিয়েছে নতুন দিশা। তিনি ছিলেন সত্যবাদী, শৈশব থেকেই আল-আমিন ও আস-সাদিক নামে পরিচিত। ন্যায়বিচারে তিনি ছিলেন অনন্য। কোনো পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই তিনি সবার জন্য সমান বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন। যাঁরা তাঁকে কষ্ট দিয়েছে, নির্যাতন করেছে, রক্তাক্ত করেছে, এমনকি তাঁকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করেছে—তাদেরকেও ক্ষমা করেছেন উদার হৃদয়ে। তিনি ছিলেন মহানুভব, সহনশীল ও ধৈর্যশীল। তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাস ও আনুগত্যে ভরপুর ছিল। তিনি নারী জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন, শিশুদের প্রতি দয়া ও দায়িত্বের শিক্ষা দিয়েছেন, দাসপ্রথা বিলোপ করেছেন, সমাজের দুর্বল, নিপীড়িত ও বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

তাঁর জীবনে অবতীর্ণ হয়েছিল আল্লাহর সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব আল-কোরআন। কোরআন মানব জীবনের পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা, যেখানে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য রয়েছে আলোকিত নির্দেশনা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জীবনে কোরআনের প্রতিটি বাণীকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন, “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র ছিল কোরআন।” অর্থাৎ, তিনি ছিলেন চলমান কোরআন, যার প্রতিটি কর্মে প্রতিফলিত হতো কোরআনের শিক্ষা।

ঈদে মিলাদুন্নবী শুধু আনন্দের দিন নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি ও শিক্ষা গ্রহণের দিন। এ দিনে মুসলমানরা দরুদ ও সালাম পাঠ করে, ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করে, কোরআন খতম ও নফল ইবাদত করে, গরীব-দুঃখীদের মাঝে দান-সদকা করে। নবীর জীবনী পাঠ করে মানুষ তাঁর শিক্ষা গ্রহণ করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তা প্রতিফলিত করার চেষ্টা করে। এভাবেই ঈদে মিলাদুন্নবী মুসলমানদের জন্য হয়ে ওঠে আনন্দ, দোয়া, ইবাদত ও আত্মসমালোচনার অনন্য সমন্বয়।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন থেকে আমরা শিখি সত্যবাদিতা, ন্যায়বিচার, দয়া, ক্ষমা, সাহস, ধৈর্য, ত্যাগ, আত্মনিবেদন এবং সর্বোপরি আল্লাহর প্রতি অটল আনুগত্য। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়। তাঁর শিক্ষা যদি সত্যিকার অর্থে আমরা অনুসরণ করতে পারি, তবে পৃথিবীতে আর কোনো অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য, দারিদ্র্য বা রক্তপাত থাকবে না। পৃথিবী পরিণত হবে শান্তির আবাসভূমিতে।

বর্তমান পৃথিবী আবারও নানা সংকটে নিমজ্জিত। যুদ্ধ-বিগ্রহ, রক্তপাত, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, বৈষম্য, ঘৃণা-বিদ্বেষে ভরপুর হয়ে উঠেছে সমাজ। ঠিক এমন সময়েই নবীর (সঃ) শিক্ষা আমাদের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয়। তাঁর দয়া, ক্ষমা, সহমর্মিতা, ন্যায়বিচার ও ভালোবাসার শিক্ষা আজ মানব সমাজে প্রতিফলিত হওয়া জরুরি। তিনি দেখিয়েছেন, কেবল শক্তি দিয়ে নয়, বরং ভালোবাসা, ন্যায়, সততা ও সৎ চরিত্র দিয়েই মানুষ জয় করা যায়।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা সর্বজনীন, চিরন্তন ও অমলিন। তাই আজকের দিনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো তাঁর আদর্শ জীবনে ধারণ করা। তিনি বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র উত্তম।” (বুখারি, মুসলিম)। তাঁর চরিত্রই আমাদের সামনে সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত।

ঈদে মিলাদুন্নবীর এই মহিমান্বিত দিনে আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি—তিনি যেন আমাদের অন্তরে নবীর প্রতি ভালোবাসা দান করেন, তাঁর সুন্নাহ পালন করার তৌফিক দেন এবং তাঁর দেখানো পথে অবিচল থাকার শক্তি দেন। এই দিন হোক মানবতার মুক্তির প্রতিজ্ঞা গ্রহণের দিন।

আমি বিশ্বের সকল মুসলমান ভাই-বোনকে ঈদে মিলাদুন্নবীর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আসুন, আমরা সবাই নবীর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের জীবন আলোকিত করি, সমাজকে শান্তির আবাসভূমি গড়ে তুলি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করে যাই। মহানবীর (সঃ) প্রতি ভালোবাসা, দরুদ ও সালাম হোক আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের দিকনির্দেশনা।
ফজলুল হক মুন্না
দৈনিক জন সংবাদ