ঢাকাThursday , 23 April 2026
  1. Home
  2. অন্যান্য
  3. অর্থনীতি
  4. আইন বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. জনপ্রিয় সংবাদ
  10. জাতীয়
  11. বিনোদন
  12. রাজধানী
  13. রাজনীতি
  14. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কোর্ট হিলে সন্ত্রাসী তৎপরতা: জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গ্রেপ্তার ৪, নতুন করে আলোচনায় ‘২৪-এর সহিংসতার অভিযোগ

সুমন দে
April 23, 2026 5:55 pm
Link Copied!

চট্টগ্রামের কোর্ট হিল এলাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে নগরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন সংশ্লিষ্ট চার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা সংঘবদ্ধভাবে জড়ো হয়ে সন্ত্রাসী তৎপরতার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঘটনাটি শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নয়, বরং রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল ভোরে কোর্ট হিল এলাকায় অবস্থিত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে হঠাৎ করেই একদল ব্যক্তি জড়ো হয় এবং সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের হাতে লাঠিসোঁটা, ইট-পাটকেলসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আতঙ্কে সাধারণ মানুষ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— জাহিদুর রহমান জাহেদ (২৯), বিশ্বজিৎ চৌধুরী (৩২), সাইফুল ইসলাম টিপু (৩৩) এবং মোহাম্মদ কামরুল হাসান (২৯)। পুলিশ জানিয়েছে, তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা পরিকল্পিতভাবে জড়ো হয়ে উস্কানিমূলক স্লোগান দেয় এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়, বরং এর পেছনে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ঘটনাটিকে ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে “২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন” সংশ্লিষ্ট সহিংসতার অভিযোগ। বিভিন্ন মহলের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতদের কেউ কেউ ওই সময় নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর হামলা, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় জড়িত ছিল। তবে এসব অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই হয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কোর্ট হিল এলাকা সাধারণত নিরাপদ হলেও এ ধরনের ঘটনার কারণে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। একজন বাসিন্দা বলেন, ভোরবেলা হঠাৎ এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তারা চরম ভীতির মধ্যে পড়ে যান এবং নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা জরুরি। বিশেষ করে ভোর বা কম জনসমাগমের সময়গুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি, সিসিটিভি মনিটরিং এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো প্রয়োজন। তা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের নাশকতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তারা জোর দিয়ে বলছে, অভিযোগ প্রমাণের আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয় এবং নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে— এমন যেকোনো তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তারা জানিয়েছে।

সার্বিকভাবে, কোর্ট হিলের এই ঘটনা এখন শুধুমাত্র একটি আইনশৃঙ্খলা বিষয় নয়; এটি রাজনৈতিক উত্তেজনা, জননিরাপত্তা এবং তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতার একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত এই ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।