ঝালকাঠির গাবখান চ্যানেলে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া আলিফ (১৫) নামে এক কিশোরের মরদেহ তিনদিন পর উদ্ধার হয়েছে। সোমবার (দুপুর সাড়ে ১২টা) দিকে শহরতলীর কিফাইতনগর এলাকার গাবখান চ্যানেলে ভাসমান অবস্থায় তাকে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা উদ্ধার করে।
স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। যে ছেলেটি ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঢাকার উত্তরার হাউস বিল্ডিং এলাকা থেকে নানা বাড়িতে এসেছিল, সে-ই আজ ফিরল নিথর হয়ে। উত্তরা হাউস বিল্ডিং এলাকা থেকে আসা আলিফের ঈদের ছুটি পরিণত হলো পরিবারের জন্য আজীবনের শোকে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের পাঁচদিন আগে আলিফ ঝালকাঠির কিফাইতনগর এলাকায় তার নানা বাড়িতে বেড়াতে আসে। শনিবার দুপুরে ছোট ভাই আলফিন ও খালাতো ভাই টুকটুককে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পাশের গাবখান চ্যানেল-এ গোসল করতে নামে সে। কিন্তু সাঁতার না জানা এই কিশোর হঠাৎই পানির স্রোতে তলিয়ে যেতে থাকে।
চোখের সামনে প্রিয়জনকে হারানোর সেই মুহূর্ত আজও ভুলতে পারছেন না স্বজনরা। স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও ব্যর্থ হন। পরে খবর পেয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে তল্লাশি শুরু করে। কিন্তু তিনদিনের দীর্ঘ অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তার পর সোমবার দুপুরে ডুবে যাওয়া স্থান থেকেই ভেসে ওঠে আলিফের নিথর দেহ।
ঝালকাঠি সদর থানার ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, নিখোঁজের তিনদিন পর পানিতে ফুলে ওঠা অবস্থায় মরদেহটি ভেসে ওঠে। মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
একটি ছোট্ট ভুল—সাঁতার না জেনেও পানিতে নামা—নিয়ে গেল একটি তাজা প্রাণ। ঈদের আনন্দ যেখানে হওয়ার কথা ছিল হাসি আর উচ্ছ্বাসে ভরা, সেখানে এখন শুধুই শোক, কান্না আর অপূরণীয় শূন্যতা।
গাবখান চ্যানেলের ঢেউ যেন আজও বয়ে নিয়ে যাচ্ছে সেই নিঃশব্দ প্রশ্ন—আর কত এমন প্রাণ হারালে আমরা সতর্ক হবো?
যোগাযোগ
01767478968
All rights reserved © 2025