জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক সুরক্ষায় ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তামাকবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এর শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত “ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫: গণমাধ্যমের কাছে প্রত্যাশা” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এই দাবি জানান।
সভাটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডেভলপমেন্ট এ্যাকটিভিটিস অফ সোসাইটি (ডাস) এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট (ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট)।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কনসালটেন্ট (IMBRTF) হোসেন আলী খোন্দকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ সভাপতি মো. আব্দুস সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হাসান সোহেল। এছাড়া তামাক নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ শাগুফতা সুলতানা, টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেলের সদস্য সচিব মো. বজলুর রহমান, দৈনিক কালের কণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি নিখিল চন্দ্র ভদ্র এবং একাত্তর টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি সুশান্ত সিনহা আলোচনায় অংশ নেন।
ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা সামিউল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাসের টিম লিড আমিনুল ইসলাম বকুল। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের হেড অব প্রোগ্রাম সৈয়দা অনন্যা রহমান।
বক্তারা বলেন, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭৩ শতাংশই অসংক্রামক রোগজনিত, যার অন্যতম প্রধান কারণ তামাক ব্যবহার। শিশু, কিশোর ও নারীদের তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে অধ্যাদেশটির কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। তারা স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০৫ সালে প্রণীত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনটি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল।
আলোচনায় জানানো হয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তামাক নিয়ন্ত্রণে অঙ্গীকার করেছে। সে প্রেক্ষাপটে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় দ্রুত এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে তামাক নিয়ন্ত্রণকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। এক্ষেত্রে জনমত গঠন ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি), নাটাব, বিইআর, নবনীতা, কেএইচআরডিএস, কসমস, গ্রাম বাংলা উন্নয়ন কমিটি, ডরপ ও উবিনীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

