ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে খাগড়াছড়ি সেক্টরের অধীনস্থ রাঙ্গামাটির বাঘাইহাট ব্যাটালিয়ন (৫৪ বিজিবি) নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও করণীয় বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় বাঘাইহাট ব্যাটালিয়ন জোন সদরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব ও বক্তব্য রাখেন বাঘাইহাট ব্যাটালিয়নের জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন ফারুকী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ও বঙ্গলতলী ইউনিয়নের মোট ১২টি ভোটকেন্দ্রে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন পরিবেশ নিশ্চিত করাই বিজিবির মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে বাঘাইহাট ব্যাটালিয়ন (৫৪ বিজিবি) অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি আরও জানান, সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত তিনটি ভোটকেন্দ্র—বেতলিং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিয়ালদাইলুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তুইচুইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে—বাঘাইহাট ব্যাটালিয়ন (৫৪ বিজিবি) স্বতন্ত্রভাবে (সামরিক বাহিনী ব্যতীত) নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করবে।
এছাড়া সাজেক ও বঙ্গলতলী ইউনিয়নের আরও নয়টি ভোটকেন্দ্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ৩১ জানুয়ারি বিজিবির সদস্যরা বেইজ ক্যাম্পে গমন করবে এবং পাঁচটি প্লাটুন রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ও বঙ্গলতলী ইউনিয়নে মোতায়েন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, নিয়মিত নির্বাচনী মহড়া ও বিজিবি হেডকোয়ার্টার্স কর্তৃক সরবরাহকৃত সরঞ্জামের মাধ্যমে রায়োট কন্ট্রোল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকায় নজরদারির জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করা হয়েছে এবং নন-লেথাল বা অপ্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে বিজিবির প্রতিটি সদস্য আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বাঘাইহাট ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবির তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং পার্শ্ববর্তী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যেন কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী, অপরাধী বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী চক্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাতে না পারে।

