দুর্নীতির অভিযোগে ঘেরা সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আবারও নতুন কর্মস্থলে:
বিশেষ প্রতিনিধি:
চাকরিজীবনের শুরু থেকেই ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলীকে একের পর এক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি না দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। সর্বশেষ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ২৮ আগস্টের অফিস আদেশে তাকে সিলেট জেলার ওসমানীনগর উপজেলায় পদায়ন করা হয়েছে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর তিনি সেখানে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগের দীর্ঘ ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ৯টি সেতুর মধ্যে ৫টির বিল প্রদানের ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মেলে। এ ঘটনায় বিভাগীয় মামলায় তার পদোন্নতিযোগ্য তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু এতকিছুর পরও তাকে চাকরিচ্যুত না করে শুধু বদলি করা হয়।
পরে তিনি হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় বদলি হন এবং প্রায় আট বছর সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। এই দীর্ঘ সময়ে আশ্রয়ণ প্রকল্প ও টিআর-কাবিখার অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এরই ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজারের রাজনগরে বদলি হলে ঘুষ গ্রহণ, কমিশন বাণিজ্য ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ওই সময় তার বিরুদ্ধে আরেকটি বিভাগীয় মামলাও দায়ের হয়।
তবে এখানেই শেষ নয়। পরবর্তীতে তিনি পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় বদলি হন। সেখানে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের স্বামীর কাছে প্রকল্পের বিল ছাড় করার শর্তে ৪৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘুষ দাবির সেই অডিও ফাঁস হয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাইরাল হয়। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এবার তার নতুন কর্মস্থল ওসমানীনগরে যোগদানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এমন একজন কর্মকর্তার পদায়ন উপজেলাবাসীর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জনপ্রতিনিধি এবং সেবাগ্রহীতা জানান, এ ধরনের দুর্নীতিবাজ পিআইও পদায়ন হলে উপজেলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। প্রয়োজনে তারা মানববন্ধন ও স্মারকলিপির মাধ্যমে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রধান উপদেষ্টার কাছে বিষয়টি জানাবেন।
অভিযোগের পাহাড় জমলেও মোহাম্মদ আলীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা শাস্তি না দিয়ে নিয়মিত বদলির মাধ্যমে টিকিয়ে রাখার ঘটনাকে অনেকেই রহস্যজনক বলে মনে করছেন। সচেতন মহল বলছে, একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিকবার দুর্নীতির প্রমাণ ও বিভাগীয় মামলার পরও যদি তিনি বহাল থাকেন, তবে তা প্রশাসনের জন্য অশনি সংকেত। তারা অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশন এবং মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্বচ্ছ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন, একজন দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা কীভাবে একের পর এক উপজেলায় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন? কেন তাকে এখনো চাকরিচ্যুত করা হয়নি? তার এই অব্যাহত দাপটের পেছনে কার আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে? এসব প্রশ্নের জবাব এখনও মেলেনি। তবে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের আগে থেকেই তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও শঙ্কা
দেখা দিয়েছে ওসমানীনগর উপজেলায়।

