পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিস সরাফাতকে ঘিরে চলমান মানিলন্ডারিং অনুসন্ধানে এবার নতুন করে উঠে এসেছে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও কথিত বান্ধবী উম্মে রোকেয়া মুক্তার নাম। সিআইডির অনুসন্ধানে অভিযোগ উঠেছে, নাফিস সরাফাতের অর্থপাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং আর্থিক জালিয়াতির নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন উম্মে রোকেয়া মুক্তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চৌধুরী নাফিস সরাফাতের আর্থিক অনিয়ম, মিউচুয়াল ফান্ডে প্রতারণা, ভুয়া বিনিয়োগ এবং বিদেশে অর্থপাচারের জটিল নেটওয়ার্কে উম্মে রোকেয়া মুক্তার সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নাফিস সরাফাতের ঘনিষ্ঠ এই নারী সহযোগী বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন, সম্পদ স্থানান্তর এবং সন্দেহজনক বিনিয়োগ কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নাফিস সরাফাত ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থ আত্মসাৎ, স্থানান্তর এবং গোপন বিনিয়োগে উম্মে রোকেয়া মুক্তা ছিলেন অন্যতম আস্থাভাজন ব্যক্তি।
অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, নাফিস সরাফাতের আর্থিক সাম্রাজ্য পরিচালনায় উম্মে রোকেয়া মুক্তা ‘বিশেষ আস্থাভাজন’ হিসেবে কাজ করতেন। দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ স্থানান্তর, সম্পদ ক্রয়, ফ্ল্যাট ও বাড়ি কেনা, এবং বিদেশে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা নিয়ে তদন্তকারীরা গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, নাফিস সরাফাতের ঘনিষ্ঠদের ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এই চক্রের মাধ্যমে বেনামি সম্পদ গড়ে তোলা, ফান্ডের অর্থ ভিন্ন খাতে সরিয়ে নেওয়া এবং ব্যক্তিগত বিলাসী জীবনযাপনে ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে। উম্মে রোকেয়া মুক্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এই আর্থিক জালিয়াতির বিভিন্ন স্তরে সুবিধাভোগী হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে এর আগেও নাফিস সরাফাত ও তার ঘনিষ্ঠ নারী সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচার, বিলাসবহুল জীবনযাপন, একাধিক ফ্ল্যাট-বাড়ি ক্রয় এবং সন্দেহজনক আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের ধারাবাহিকতায় সিআইডির অনুসন্ধানে উম্মে রোকেয়া মুক্তার নাম সামনে আসে।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নাফিস সরাফাতের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১ হাজার ৬১৩ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলার অনুসন্ধান যত গভীর হচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে নতুন নতুন নাম, নতুন আর্থিক কৌশল এবং গোপন সম্পদের বিস্ময়কর তথ্য। সেই তালিকায় এখন আলোচনার কেন্দ্রে উম্মে রোকেয়া মুক্তা।
সিআইডি বলছে, নাফিস সরাফাতের অর্থপাচার ও দুর্নীতির নেটওয়ার্কে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তি, সুবিধাভোগী এবং সহযোগীর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনুসন্ধান শেষে উম্মে রোকেয়া মুক্তার বিরুদ্ধেও পৃথক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
যোগাযোগ
01767478968
All rights reserved © 2025