ঢাকাবৃহস্পতিবার , 16 এপ্রিল 2026
  1. Home
  2. অন্যান্য
  3. অপহরণ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন বিচার
  6. আন্তর্জাতিক
  7. উৎসব
  8. ক্যাম্পাস
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. জনপ্রিয় সংবাদ
  12. জাতীয়
  13. নির্বাচন
  14. পরিদর্শন
  15. পূজা উদযাপন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিয়ন্ত্রণহীন ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ শিশুদের জন্য বড় হুমকি—তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর উদ্বেগ

Kobita afroz
এপ্রিল 16, 2026 3:12 অপরাহ্ন
Link Copied!

ঢাকা, ১৬ এপ্রিল ২০২৬: নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (HTP) বাজারে প্রবেশ করলে তা শিশু-কিশোরদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর নেতারা।

আজ বুধবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের মাধ্যমে ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টকে সংজ্ঞা ও নিষিদ্ধ বিধান থেকে বাদ দেওয়ায় এসব পণ্য নিয়ন্ত্রণে আইনি শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এতে করে শিশু-কিশোরদের কাছে নিকোটিনভিত্তিক নতুন পণ্য সহজলভ্য হয়ে উঠতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ ও সংশ্লিষ্ট পণ্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের জনস্বাস্থ্য নীতিতে গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এসব পণ্য নেশা সৃষ্টিকারী এবং কিশোরদের মধ্যে আসক্তি বাড়াতে পারে।

তারা আরও বলেন, বাংলাদেশে ই-সিগারেট আমদানি ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ থাকলেও নতুন আইন সংশোধনের ফলে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। ফলে বাজারে এসব পণ্য প্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে বক্তারা আশঙ্কা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে—ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ তরুণদের আকৃষ্ট করতে পারে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক এলাকায় এসব পণ্যের বিপণন বাড়ছে। তারা অভিযোগ করেন, কিছু কোম্পানি বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার মাধ্যমে তরুণদের লক্ষ্যবস্তু করছে।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেমকে (ENDS) ঝুঁকিপূর্ণ ও আসক্তি সৃষ্টিকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্বের বহু দেশ এসব পণ্য নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে বলেও তারা দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, নীতিগত দুর্বলতার কারণে যদি এসব পণ্য বাজারে বিস্তার লাভ করে, তাহলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে।

তারা সরকারের প্রতি তিনটি দাবি জানান—
১. ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধে পৃথক ও শক্তিশালী আইন প্রণয়ন করা
২. আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা
৩. ই-সিগারেট আমদানি নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বহাল রাখা

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বক্তারা বলেন, জনস্বার্থ ও শিশুদের সুরক্ষার জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো সরকারকে দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানায়, যাতে বাংলাদেশে নিকোটিনভিত্তিক নতুন ধরনের পণ্যের বিস্তার রোধ করা যায়।