জাতীয় রাজনীতিতে নোয়াখালী বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত জেলা হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান এবং প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে নোয়াখালীর মানুষ সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রেখে আসছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতি নোয়াখালীবাসীর রাজনৈতিক আস্থা ও সমর্থন দীর্ঘদিনের এবং পরীক্ষিত।
প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি বরাবরই উল্লেখযোগ্য বিজয় অর্জন করেছে। সর্বশেষ নির্বাচনে নোয়াখালী-১ থেকে নোয়াখালী-৬—এই ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ভূমিধস জয়ের নজির স্থাপন করেন। এই বিজয় শুধু একটি রাজনৈতিক সাফল্য নয়, বরং নোয়াখালীবাসীর দীর্ঘদিনের ত্যাগ, আন্দোলন ও দলের প্রতি আস্থার প্রতিফলন।
কিন্তু এত বড় অবদানের পরও এবারের সরকার গঠনে নোয়াখালী থেকে কেউ মন্ত্রিত্ব না পাওয়ায় জেলা জুড়ে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, এটি শুধু একটি জেলার বঞ্চনা নয়; বরং দলীয় রাজনীতিতে ত্যাগী অঞ্চলগুলোর প্রতি অবহেলার একটি দৃষ্টান্ত।
নোয়াখালী বাংলাদেশের অন্যতম জনবহুল ও প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বসবাসরত নোয়াখালীবাসীরা প্রবাস থেকে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। একইসঙ্গে দেশের অভ্যন্তরেও ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, আইন, প্রশাসন ও রাজনীতিতে নোয়াখালীর মানুষের অবস্থান দৃশ্যমান। তবুও প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে জেলা বরাবরই অবহেলিত।
দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীবাসীর একটি প্রধান দাবি হলো নোয়াখালী বিভাগ গঠন। ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও প্রশাসনিক গুরুত্ব বিবেচনায় নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণার যৌক্তিকতা বহুবার তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু আজও সেই দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। এতে করে বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষ স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রশাসনিক সেবা পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী দাবি হলো নোয়াখালী এয়ারপোর্ট সংস্কার ও চালু করা। একসময় কার্যকর থাকা এই বিমানবন্দরটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। অথচ প্রবাসী অধ্যুষিত এই জেলার জন্য একটি কার্যকর বিমানবন্দর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। স্থানীয়দের মতে, নোয়াখালী এয়ারপোর্ট চালু হলে চট্টগ্রাম ও ঢাকার ওপর চাপ কমবে এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ভারসাম্য আসবে।
বিএনপির সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে নোয়াখালীবাসী আশা করছে, এবার দলীয় নেতৃত্ব এই জেলার অবদানকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবে। বিশেষ করে নোয়াখালীর সিনিয়র ও পরীক্ষিত নেতৃবৃন্দ—মোহাম্মদ শাহজাহান, বরকাতুল্লাহ বুলু, জয়নাল আবেদীন ফারুক, এবং ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন—তাঁদের অভিজ্ঞতা ও ত্যাগকে জাতীয় পর্যায়ে সম্মানজনক ও কার্যকর অবস্থানে কাজে লাগানো হবে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের বক্তব্য, নোয়াখালী কখনো সুবিধাবাদী রাজনীতি করেনি। আন্দোলন-সংগ্রামে জীবন দিয়েছে, নির্যাতন সহ্য করেছে, কিন্তু দল ও আদর্শ থেকে সরে যায়নি। তাই উন্নয়ন, প্রশাসনিক স্বীকৃতি ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব—এই তিন ক্ষেত্রে নোয়াখালীকে আর পিছিয়ে রাখা উচিত নয়।
নোয়াখালীবাসীর পক্ষ থেকে এই মুহূর্তে দুটি মৌলিক ও অগ্রাধিকারভিত্তিক দাবি স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে—
এক, নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণা।
দুই, নোয়াখালী এয়ারপোর্ট সংস্কার করে দ্রুত কার্যক্রম শুরু।
এই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে শুধু নোয়াখালী নয়, পুরো দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ভারসাম্য আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল। এখন দেখার বিষয়, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নোয়াখালীর এই দীর্ঘদিনের আস্থা, ত্যাগ ও অবদানের কীভাবে প্রতিদান দেয়।
Tarique Rahman
Gias Uddin Khokon
VP Monir
#নোয়াখালী
#BNP
#ভূমিধস_বিজয়
#নোয়াখালী_বিভাগ
#নোয়াখালী_এয়ারপোর্ট
#রাজনৈতিক_বঞ্চনা
#উন্নয়নের_দাবি
#নোয়াখালীবাসী
#জাতীয়_রাজনীতি
#প্রবাসী_অবদান

