কালের বিবর্তনে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ পাথরের জাঁতা। একসময় গ্রামবাংলার প্রায় প্রতিটি গৃহস্থবাড়ির অপরিহার্য উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত এই জাঁতা এখন আধুনিক যান্ত্রিকতার দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে।
কয়েক দশক আগেও ভোরবেলা জাঁতার ঘড়ঘড় শব্দে মুখর থাকত গ্রামাঞ্চল। বাড়ির নারীরা জাঁতায় কলাই, গম, চাল ও বিভিন্ন মসলা পিষে দৈনন্দিন খাদ্য প্রস্তুত করতেন। বিশেষ করে নবান্ন, বিয়ে ও পারিবারিক উৎসবগুলোতে জাঁতার ব্যবহার ছিল অপরিহার্য। এমনকি একসময় নববধূকে বিয়ের উপহার হিসেবে জাঁতা দেওয়ার রীতিও ছিল গ্রামীণ সমাজে প্রচলিত।
বর্তমানে বিদ্যুৎচালিত মিল, আধুনিক গ্রাইন্ডার এবং বাজারে সহজলভ্য প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যের কারণে মানুষ জাঁতার ব্যবহার থেকে দূরে সরে গেছে। ফলে গ্রামীণ জীবনের এই ঐতিহ্যবাহী উপকরণটি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষা ফেরুষা গ্রামের ৬৮ বছর বয়সী মনোবালা রানী স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আগে ভোরের আলো ফুটতেই বউ-ঝিরা মিলে জাঁতা নিয়ে বসতাম। এখন কাজ সহজ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই আগের পরিবেশ আর নেই। ঘরের কোণে জাঁতাটা এখন অবহেলায় পড়ে আছে।”
একই ইউনিয়নের পশ্চিম ফুলমতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক কামাক্ষা চরণ রায় বলেন, “জাঁতা শুধু একটি যন্ত্র নয়, এটি আমাদের লোকজ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্য তুলে ধরতে সংরক্ষণ প্রয়োজন।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, আধুনিকতার সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নিদর্শনগুলো সংরক্ষণে উদ্যোগ না নিলে অদূর ভবিষ্যতে পাথরের জাঁতা শুধু ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।
যোগাযোগ
01767478968
All rights reserved © 2025