
নাটোরের বড়াইগ্রামে একটি ঘরে কয়েকজন তরুণের রামদা ও ছুরি ধার দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য এক প্রার্থীসহ তাঁর কয়েকজন অনুসারীকে দেখা গেছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত সোমবার রাত থেকে ১৩ সেকেন্ডের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, একটি ঘরের খাটে বসে চার তরুণ সিরিশ কাগজ দিয়ে বড় আকারের রামদা ঘষে ধার দিচ্ছেন। ঘরের অন্য কয়েকজন চেয়ারে বসেও রামদা ধার দিচ্ছিলেন। এ সময় একজনকে বড় একটি ছুরি ধার দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে অস্ত্র ধার দেওয়ার শব্দও শোনা যায়। খাটের ওপর কয়েকটি হকিস্টিক পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
ভিডিওর একপর্যায়ে একজন ওই ঘরে প্রবেশ করে বলেন, ‘এখানে ঘোষাঘোষি কিসের?’
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে সাব্বাব হক (সাবু) রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার বড়াইগ্রাম থানায় দায়ের হওয়া একটি মাদক মামলায় তিনি আসামি। সাব্বাব বড়াইগ্রামের ৩ নম্বর জুনাইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলেও দলটির কোনো পদে নেই। এলাকায় চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তাঁর শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টারও দেখা গেছে।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে সাব্বাব দলীয় সমর্থন প্রত্যাশা করছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল কাদের মিয়া। তিনি বলেন, ভিডিওটি তিনিও দেখেছেন। সাব্বাব চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সমর্থন চাইছেন, তবে দলের কোনো পদ-পদবি তাঁর নেই।
স্থানীয়দের দাবি, ভিডিওতে থাকা অন্য তরুণেরাও সাব্বাবের অনুসারী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বড়াইগ্রামের কুমারখালী গ্রামের মাহফুজ আলম, চৌমুহন গ্রামের রাহিম হোসেন ও সোহান হোসেন এবং পাবনার চাটমোহর উপজেলার সন্ধবা গ্রামের কিরণ হোসেন।
ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একটি ফেসবুক পোস্টে নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী মন্তব্য করেন, ‘অস্ত্র কাকে হত্যা করার জন্য তৈরি হচ্ছে।’ নাজমুল হাসান নামের একজন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মন্তব্য করেন।
রামদা ধার দেওয়ার ভিডিও সম্পর্কে জানতে সাব্বাব হকের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ভিডিওটি পুলিশের নজরেও এসেছে। ভিডিওতে থাকা সাব্বাবের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা রয়েছে। অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। বিষয়টি যাচাই করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যোগাযোগ
01767478968
All rights reserved © 2025