নোয়াখালী–ঢাকা রুটে সদ্য চালু হওয়া সারা এক্সপ্রেস বাস সার্ভিসের ওপর সোনাপুর এলাকায় সংঘটিত ঘটনাটি এখন সাধারণ বিশৃঙ্খলার চেয়েও বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মালিক সমিতির পরিচয় ব্যবহার করে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে যাত্রীদের জোরপূর্বক নামিয়ে দেওয়া, সুপারভাইজারকে মারধর এবং নগদ অর্থ লুট—সব মিলিয়ে এটি একটি পরিকল্পিত চাঁদাবাজি ও সড়ক সন্ত্রাসেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ধরনের প্রশাসনিক নোটিশ, লিখিত নির্দেশনা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছাড়াই একদল লোক হঠাৎ করে রাস্তা অবরোধ করে বাসটি আটকায়। তারা দাবি করে, মালিক সমিতির রোড পারমিশন না থাকায় বাস চলাচল অবৈধ। তবে প্রশ্ন উঠেছে—যদি সত্যিই এটি বৈধতার বিষয় হতো, তাহলে কেন বিআরটিএ বা ট্রাফিক পুলিশের কেউ সেখানে উপস্থিত ছিল না?
সারা এক্সপ্রেস কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের কাছে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের অনুমোদন রয়েছে। বাসটির জিএম সোহেল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জানান, যারা নিজেদের মালিক সমিতির লোক পরিচয় দিয়েছে, তারা কোনো স্বীকৃত সমিতির প্রতিনিধি নয়। বরং তারা সন্ত্রাসী কায়দায় বাসের স্টাফ ও যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছে।
তদন্তে দেখা যায়, যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। বাস থামানোর সঙ্গে সঙ্গেই একদল যাত্রীদের উদ্দেশ্যে হুমকি ও চিৎকার শুরু করে, অন্যদল সুপারভাইজারকে মারধর করে এবং বাসে থাকা নগদ টাকা লুট করে। এতে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বাসে অসুস্থ রোগী, নারী ও বয়স্ক যাত্রী থাকার পরও তাদের কোনো অনুরোধ শোনা হয়নি। অনেক যাত্রী ব্যাগ, মোবাইল ফোন, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র বাসে রেখেই পায়ে হেঁটে চলে যেতে বাধ্য হন। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক ট্রমার শিকার হন তারা।
ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিক ফজলুল হক মুন্না অভিযুক্তদের প্রশ্ন করলে তারা নিজেদের পরিচয়, সমিতির নাম কিংবা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়। এতে যাত্রীদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় যে, এটি আসলে পরিবহন খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান একটি চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের অংশ।
স্থানীয় পরিবহন শ্রমিকদের একাংশের দাবি, নতুন কোনো বাস সার্ভিস চালু হলেই এই ধরনের চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। উদ্দেশ্য একটাই—ভয় দেখিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা অথবা নতুন সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়া।
ঘটনার পর এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক বা আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনার খবর না পাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বেড়েছে। তাদের প্রশ্ন—প্রকাশ্যে দিনের আলোতে সড়কে যদি এভাবে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি চলে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
ভুক্তভোগী যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং পরিবহন রুটে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ দাবি করেছেন। তা না হলে নোয়াখালীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবস্থা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যোগাযোগ
01767478968
All rights reserved © 2025