সোনাইমুড়ীতে বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ, পিতার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি :
সোনাইমুড়ী প্রতিনিধি |
সোনাইমুড়ী উপজেলার সোনাপুর গ্রামে বিএনপির নেতা ইমরান হোসেনের পৈতৃক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও তার পিতা তাহের হোসেনের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই একদল সংঘবদ্ধ ব্যক্তি ইমরান হোসেনের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ীতে এবং বাসার আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এ সময় প্রতিবেশী নারী ও শিশুদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা স্থানীয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
হামলার পরপরই ইমরান হোসেনের পিতা তাহের হোসেন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, তার মৃত্যু স্ট্রোকে ঘটেছে। তবে পরিবারের দাবি, হামলার সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণেই তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তা মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।
এ ঘটনায় এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই ধরনের হামলা আমাদের আতঙ্কিত করে তুলেছে। আমরা চাই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হোক এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও প্রতিহিংসার জেরেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে, এতে সাধারণ জনগণই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানায় যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও। এদিকে এখনো পর্যন্ত এ
ঘটনায় কোনো লিখিত মামলা দায়ের হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
মানবাধিকার কর্মী ও সচেতন মহল এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের শনাক্তকরণ এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
যোগাযোগ
01767478968
All rights reserved © 2025