সোনাইমুড়ী-ঢাকা-রামগঞ্জ মহাসড়ক দখল করে চলছে ইট-বালুর ব্যবসা, প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
নোয়াখালী, সোনাইমুড়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫: সোনাইমুড়ী-ঢাকা-রামগঞ্জ মহাসড়ক এবং সোনাইমুড়ী থেকে জয়াগ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিভিন্ন অংশ দখল করে অবৈধভাবে ইট, বালু ও মাটির ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। এতে যান চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ব্যবসার পেছনে সোনাইমুড়ী থানা ও উপজেলা প্রশাসনের নিরব সহযোগিতা রয়েছে মর্মে অভিযোগ আছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থাকার শর্তে জানিয়েছেন, যে তারা প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার সাথে সমঝোতা করেই এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এক ব্যবসায়ী বলেন, “প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এখানে ব্যবসা পরিচালনা সম্ভব নয়। থানার কিছু কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনের কিছু ব্যক্তিকে ম্যানেজ করেই আমরা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।”
মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট, বালু ও মাটি ফেলে রাখার ফলে যান চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তা সরু হয়ে যাওয়ায় প্রায়ই যানজট লেগে থাকে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সড়কে বালু ছড়িয়ে পড়ে, যা পরিবহন ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। প্রতিনিয়ত সড়কে এক্সিডেন্ট হচ্ছে এসব স্থানে।
এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণে ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, অথচ সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোরশেদ আলমের সাথে মুঠোফোনে কথা বলতে চাইলে সরকারি জরুরি কাজে ব্যাস্ত আছেন, পরে যোগাযোগ করার এড়িয়ে যান।
উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তারাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয় জনগণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সড়ক দখল বন্ধ হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়।
(প্রতিবেদন: নিজস্ব প্রতিবেদক)