
smart
সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে মাটি লুটের ঘটনা সম্প্রতি আরও গভীরতর আকার ধারণ করেছে। ভাওরকোর্ট, জুনুদপুর, আনন্দীপুর ও কুলশ্রী গ্রামের মানুষের ফসলি জমির মাটি অবৈধভাবে লুট করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনগণ প্রতিবাদ জানালে, তাদের ওপর হামলা চালানো এবং প্রশাসনের অদৃশ্য ভূমিকা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার, আনন্দীপুরে মাটি কাটার স্থল থেকে চাঁদাবাজী করার সময় রুবেল এবং বাদল নামে দু’জন যুবদল কর্মী স্থানীয় জনতার হাতে আটক হয়। তাদের বিরুদ্ধে মাটি কাটার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। আটক হওয়া যুবকরা দাবি করেন, তারা যুবদলের নেতা এবং জয়াগ ইউনিয়ন বিএনপির সেলিম গ্রুপের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা মাটির ট্রাক থেকে চাঁদাবাজী করে আসছিল।
এরপর, জুনুদপুর থেকে ছাড়া পাওয়ার পর, জয়াগ কাউন্সিলে টিসিবির খাদ্য নিতে আসা কিছু লোককে আটক করা হয় এবং হেনস্তা করা হয়। এ ঘটনায় বাড়তে থাকে উত্তেজনা এবং একইদিন বিএনপির ছাত্রদল কর্মীদের একটি ট্রাক আটক করার পর বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। সংঘর্ষের ফলে স্থানীয় এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এছাড়া, গত মঙ্গলবার রাতে জয়াগ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে মাটি কাটার ঘটনা ঘটে, যা সাধারণ মানুষকে অগোচরে করা হয়। ভাওরকোর্ট ও কুলশ্রী গ্রামে সাহরির পর মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জমির মালিকরা প্রতিবাদ জানালে তারা বাধার সম্মুখীন হন এবং প্রাণনাশের হুমকিও পাওয়া যায়।
ভাওরকোর্ট গ্রামের এবিএম আবদুল্লাহ আল বাকী ও আবদুল্লা আল কাফি, সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দাখিল করে জানান, মাটি কাটার জন্য জোরপূর্বক ডেকো ব্যবহার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে, তারা প্রাণনাশের হুমকি থেকে মুক্ত হবে না।
জয়াগ ইউনিয়নের বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হোসেনের ভাগিনা সুজনও এই মাটি লুটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ডা. খোকন, রাজু, হিরন, মুফতি হিজবুল্লাহ ও শাহাজাহানসহ অনেকের প্রচেষ্টায় কিছু এলাকায় মাটি কাটার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও, রাতের আঁধারে আবারও মাটি লুটের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জমির মালিকরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে, রাজনৈতিক পরিচয়ে অবৈধভাবে সম্পদ লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুরো জয়াগ ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণ এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে যাচ্ছে।