বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মোঃ মাসুদ পারভেজ-এর বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং কোটি টাকার মত বিপুল সম্পদ অর্জনের বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা অবাক হয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, একজন সাধারণ আউটসোর্সিং কর্মচারী কীভাবে এত বড় সম্পদ ও ব্যয়বহুল জীবনধারা চালাতে পারেন।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও গান্ডিকারী গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ পারভেজ একজন আউটসোর্সিংয়ের কর্মচারী হলেও ইতিমধ্যেই এলাকায় আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। স্থানীয়রা জানায়, তার বাড়ি কেবলই বিশাল নয়, বরং নির্মাণ ও সাজসজ্জার মানও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। শুধু বাড়িই নয়, তিনি অফিসের কাজে ঢাকায় যাতায়াতের জন্য বিমান ব্যবহার করেন। একইভাবে, ব্যক্তিগত বা সরকারি কাজে ভ্রমণে গেলে ঢাকা বা কক্সবাজার যাওয়াতেও বিমানের ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন, “একজন নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মচারি কীভাবে এই ধরনের ব্যয়বহুল জীবনযাপন চালাতে পারেন?” এ ধরনের জীবনযাত্রা ও সম্পদ অর্জন, স্থানীয়দের ধারণা অনুযায়ী, তার সাধারণ বেতনের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে সম্ভব নয়।
অফিস সহকর্মী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, মোঃ মাসুদ পারভেজ নিয়মিত বিভিন্ন সরকারি কাজে বিভিন্নভাবে ঘুষ আদায় করে থাকেন। একাধিক ব্যক্তি জানান, “তার মাধ্যমে কাজ করাতে হলে ঘুষ দিতে হয়।” অনেকে দাবি করেন, সাধারণ বেতন দিয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তোলা বাস্তবে সম্ভব নয়। তাদের বক্তব্য, মাসুদ পারভেজ যেন এক প্রভাবশালী জমিদারের মতো আচরণ করেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, মাসুদ পারভেজের কর্মকাণ্ড শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা বলেন, “সরকারি চাকরির আড়ালে এই ধরনের অবৈধ সম্পদ অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি রাষ্ট্র ও সমাজের জন্যও ভয়ঙ্কর দৃষ্টান্ত।”
মাসুদ পারভেজের বিরুদ্ধে অভিযোগের আরও একটি দিক হলো, তিনি সরকারি প্রকল্পের নানা কাজের অনুমোদন ও বাস্তবায়নে অনিয়মের মাধ্যমে নিজ বা পরিজনের জন্য আর্থিক সুবিধা নেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তার কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ সরকারের প্রকল্প ও সহায়তা কার্যক্রমে বিপাকে পড়ছেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সরকারি কাজের জন্য অনেক সময় স্থানীয়দের অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাসুদ পারভেজ একজন আউটসোর্সিং কর্মচারী। আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োজিত কর্মচারীর বেতন সাধারণত সীমিত হয়। তবে মাসুদ পারভেজের বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং লক্ষাধিক টাকা মূল্যের সম্পদ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক বিতর্কের কারণ হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, তার সম্পদ ও ব্যয়বহুল জীবনধারার উৎস নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
দূর্নীতি দমন কমিশন ও কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের দাবি
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন, অবিলম্বে দুদক বা সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মাধ্যমে মাসুদ পারভেজের সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করা হোক। তারা মনে করছেন, যদি এই ধরণের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে, তবে সরকারি চাকরির মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির পথ উন্মুক্ত হবে, যা সাধারণ জনগণের মধ্যে বিশ্বাসহীনতা ও অব্যবস্থার উদ্রেক ঘটাবে।
স্থানীয়রা আরও বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে এ ধরনের উদাহরণ বিরল নয়। কিন্তু আউটসোর্সিংয়ের কর্মচারী হিসেবে মাসুদ পারভেজের আচরণ ও সম্পদের পরিমাণ স্থানীয় জনগণকে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। তারা আশা করছেন, সরকারি কর্তৃপক্ষ তার সম্পদ ও অর্থের উৎস খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এছাড়া, স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, মাসুদ পারভেজ প্রায়শই সরকারি কাজে তার প্রভাব খাটিয়ে এলাকার মানুষদের উপর চাপ সৃষ্টি করেন। প্রকল্প অনুমোদন ও সরকারি সহায়তা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে অনেকে অভিযোগ করেছেন, “তার সঙ্গে সমঝোতা না হলে প্রকল্প বা সুবিধা পাওয়া কঠিন।” স্থানীয়রা মনে করছেন, এটি সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
মাসুদ পারভেজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা
মাসুদ পারভেজের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, তার বক্তব্য ছাড়া কোনো তথ্য পত্রিকায় প্রকাশ করা কঠিন। তবে তার কর্মকাণ্ড ও সম্পদ অর্জন নিয়ে স্থানীয় জনগণের অভিযোগ যথেষ্ট স্পষ্ট।
স্থানীয়রা আরও বলেন, শুধু সম্পদ নয়, মাসুদ পারভেজের আচার-ব্যবহারও এলাকা ও অফিসের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করছে। তার আচরণে মনে হয় যেন তিনি স্থানীয় রাজনীতিক বা প্রভাবশালী জমিদারের মতো প্রভাবশালী। তারা আশঙ্কা করছেন, যদি তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আরও প্রকট রূপ নেবে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
দৃশ্যমানভাবে, এলাকার সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিকরা মাসুদ পারভেজের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব। তারা দাবি করেছেন, “সরকারি চাকরির আড়ালে কোটি কোটি টাকা আয়ের বিষয়টি দ্রুত তদন্তের আওতায় আনা উচিত।” তারা মনে করছেন, এ ধরনের উদাহরণ ভবিষ্যতে সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য হুমকি স্বরূপ।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, “সরকারি চাকরির নামে এত সম্পদ অর্জন একটি ভয়ঙ্কর দৃষ্টান্ত। আমরা আশা করছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।”
মোঃ মাসুদ পারভেজের কর্মকাণ্ড এবং সম্পদ অর্জনের বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও স্থানীয় জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করার বিষয়। স্থানীয়রা আশা করছেন, দুদক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে মাসুদ পারভেজের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও স্থানীয়রা বলছেন, “উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত ছাড়া এই বিষয়টি ঠিকমতো সমাধান হবে না।” তাই সরকারের পক্ষ থেকে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি সর্বোচ্চ গুরুত্বের হয়ে দাঁড়িয়েছে।

