“সোনাইমুড়ী ও চাটখিলের ফসলি জমি থেকে অবাধে মাটি কাটার মহোৎসব, ধ্বংস হচ্ছে চলাচলের রাস্তা”
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অবাধে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। ভেকু মেশিনের মাধ্যমে মাটি কেটে ট্রাক্টর ও ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটা এবং জমি ভরাট কাজে বিক্রি করা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে ফসলি জমির উর্বরশক্তি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে রাস্তা ভেঙে চলাচলের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে একাধিক লিখিত ও মুঠোফোনে অভিযোগ করলেও, তাতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলায় বেশ কয়েকটি ইউপিতে ইটভাটা মালিক ও জমি দখলকারীরা মাটি কেটে ট্রাক্টর দিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলার প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির হাতেই চলছে মাটি কাটার এই ব্যবসা। অভিযোগ উঠেছে যে, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তারা মাটি কেটে বিক্রি করছে। এর ফলে একদিকে রাস্তার অবস্থার অবনতি ঘটেছে, অন্যদিকে কৃষি জমি সেচে সেচে নষ্ট হচ্ছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানান, ‘‘গত কয়েকদিন ধরে সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষি জমি থেকে রাতের অন্ধকারে মাটি কাটা হচ্ছে। একাধিকবার অভিযোগের পরও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’’
উল্লেখ্য, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও বিএনপি নেতা কিছু জমি দখল করে ওই জমি থেকে মাটি কাটার কাজ শুরু করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, সরকারি খাস জমি থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটার এই ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে এলাকাবাসীর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগে বলেন, ‘‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এই মাটি কাটার কাজে একসাথে হাত মিলিয়ে চলছেন। তারা প্রশাসন ও নেতাদের ম্যানেজ করে দিনের পর দিন অবৈধভাবে এই কাজ করে চলেছেন।’’
এছাড়াও, স্থানীয় এলাকাবাসী অবিলম্বে মাটি কাটার এই কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে এলাকার রাস্তা ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি কৃষি জমির উর্বরতা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যাবে, যা ভবিষ্যতে এক বড় সমস্যার সৃষ্টি করবে।
তবে, সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করার পরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁরা অভিযোগ করেছেন যে, ‘‘অফিসে যোগাযোগ করার পরও কর্মকর্তা ফোন ধরছেন না।’’ এ বিষয়ে জানার জন্য সাংবাদিকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত, মাটি কাটার কাজ অব্যাহত থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এখনো পর্যন্ত, সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলার ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার মহোৎসব বন্ধ করা হয়নি এবং রাস্তা ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পদক্ষেপের আশা করছেন, যাতে তাদের সড়ক নিরাপদ এবং কৃষি জমি রক্ষা করা যায়।