লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে হাতীবান্ধায় নির্বাচনী গণসংযোগকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির কর্মী সমর্থকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালীন তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও কয়েকটি দোকানপাটসহ বাড়ীঘরে হামলা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রবিবার বিকাল ৪টার দিকে হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের কসাইটারী গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রবিবার বিকেলে উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের কসাইটারী এলাকায় আজিম উদ্দিনের বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নারী কর্মী গণসংযোগে যান। এ সময় বাড়ির আশপাশের লোকজন তাদের পরিচয় জানতে চাইলে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। খবর পেয়ে জামায়াত ও বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ও সমর্থকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রথমে দুই পক্ষের কথা-কাটাকাটি ও পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় ঘণ্টা ব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন নেতা-কর্মী ও সমর্থক আহত হন। আহতরা হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আহতের মধ্যে দুইজন হলেন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও সমর্থক। তারা হলেন আবুল কাশেম (৫৫) ও সোহেল রানা (২৭)।
আহতদের ৯ জন হলেন বিএনপির নেতা ও কর্মী। তারা হলেন হাতীবান্ধা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নূরনবী কাজল খন্দকার (৪৬), মতিউর রহমান (২৫), নাজমুল হোসেন ছাকিম (১৮), মানিক মিয়া (৪৮), আশরাফ হোসেন (৬৫), শাহ আলম (২৮), শরিফুল ইসলাম (২৬), আছিম উল্লাহ (৫০) ও শাহিদা খাতুন (৬৫)
আহত বিএনপি নেতা নূরনবী কাজল খন্দকার জানান, জামায়াতের কয়েকজন মহিলা কর্মী গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলা ভোটারদের মাঝে বিভ্রান্তিমুলক তথ্য প্রচার করছিলেন। এ খবর পেয়ে তারা কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিভ্রান্তিমুলক তথ্যের প্রতিবাদ জানান। কিছুক্ষনের মধ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা ছুটে এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন। ‘আমরা কোন কিছু বুছে উঠার আগেই জামায়াতের লোকজন আমাদের ওপর চড়াও হয়ে হামলা শুরু করেন। ঘটনাস্থলে আমিসহ কয়েকজন আহত হই,’ তিনি বলেন।
তবে আহত জামায়াত কর্মী আবুল কাশেম জানান,’ আমাদের মহিলা কর্মীরা নির্বাচনী প্রচারনা করছিলেন। বিএনপির লোকজন তাদের উদ্দেশ্য করে উস্কানিমুলক কথা বলতে থাকেন। নির্বাচনী প্রচারনায় বাধা সৃষ্টি করেন।’ ‘আমাদেরকে গালিগালাজ শুরু করে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বিএনপির লোকজন। আমাদের কয়েকজন আহত হই। এ ঘটনায় আমাদের কোন দোষই ছিলো না,’ তিনি বলেন।
হাতীবান্ধা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিছুক্ষনের মধ্যে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার ও পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল উপস্থিত হন। ‘আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে থমথমে পরিবেশ রয়েছে। আবারো সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে,’ তিনি বলেন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরিন হক জানান,’ খবর পে্যেয় আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেনে আনতে পুলিশকে নির্দেশ দেই। সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ থেকে ১২জন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।’ ‘পুনরায় সংঘর্ষের আশংকা। সংঘর্ষ ঠেকাতে আমাদের প্রস্তুতিও রয়েছে,’ তিনি বলেন।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনী পরিবেশ নষ্টকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ’আমি উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে তাদেরকে ধৈর্য্য থাকতে বলেছি,’ তিনি বলেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা।
লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টিসহ মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান ও জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম।

