র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে বিভিন্ন ধরণের অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আসছে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূল ও মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি খুন, চাঁদাবাজি, চুরি, কিশোর গ্যাং, ডাকাতি ও ছিনতাই চক্রের সাথে জড়িত বিভিন্ন সংঘবদ্ধ ও সক্রিয় সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনির্মাণের জন্য র্যাবের জোরালো তৎপরতা অব্যাহত আছে। এছাড়াও বিভিন্ন হত্যাকান্ডের দীর্ঘদিন যাবৎ আত্মগোপনে থাকা বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচনপূর্বক হত্যাকারীদেরকে গ্রেফতার করে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে র্যাব সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৩ ও র্যাব-৮ এর যৌথ আভিযানিক দল পটুয়াখালী জেলার দুমকি থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানাধীন এলাকায় নিখোঁজের তিন দিন পর আখক্ষেত হতে সাগর @ আপেল মিয়া (২৭) নামে এক অটোরিকশা চালকের বিকৃত মরদেহ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূল আসামি মোঃ রিপন মিয়া (৩০), পিতা- মোঃ আব্দুল্লাহ, গ্রাম- মদনেরচর, থানা- দেওয়ানগঞ্জ, জেলা- জামালপুর’কে ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ ১৪:৪০ ঘটিকায় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
মামলার এজাহার হতে জানা যায় যে, ভিকটিম সাগর @ আপেল (২৭), পিতা- লাল মিয়া @ ফতর আলী, গ্রাম- মদনেরচর, থানা- দেওয়ানগঞ্জ, জেলা- জামালপুর ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ রিপন মিয়া মাঝে মধ্যে ভিকটিম সাগর @ আপেল মিয়া এর ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা ভাড়া করে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার সুবাদে তাদের দুইজনের মধ্যে সু-সম্পর্ক তৈরি হয়। পরবর্তীতে ভিকটিম সাগর @ আপেল এর সাথে গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ রিপন মিয়ার মধ্যে ভাড়া সংক্রান্ত বিষয়ে মনমালিন্য হলে আসামি রিপন ভিকটিমের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে সুযোগমতো প্রতিশোধ নেওয়ার কথা জানায়। এরই প্রেক্ষিতে ভিকটিমের স্ত্রীর দেওয়া তথ্য মতে গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত অনুমান ০৩.০০ ঘটিকার সময় ধৃত আসামি মোঃ রিপন মিয়া ভিকটিমের বাড়িতে এসে সাগর @ আপেলকে ঘুম থেকে তাকে ডেকে অটোরিক্সা যোগে দেওয়ানগঞ্জ রেল ষ্টেশনে পৌছে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যায় এবং এ সময় অজ্ঞাত পরিচয়ে আরো ২/৩ জন ব্যক্তি আসামি রিপনের সাথে ছিল। তারা অটোরিক্সায় করে দেওয়ানগঞ্জ এলাকার পোল্যাকান্দির দিকে রওয়ানা করে। রওনা হওয়ার পর পরিবারের সাথে ভিকটিমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ভিকটিমের পরিবারের সকলেই আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজখবর করতে থাকে। ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ হতে বিভিন্ন স্থানে খোজ খবর নিয়ে তার কোন সন্ধান না পেয়ে ভিকটিমের ভাই মোঃ আফিজল হক কর্তৃক গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে।
পরবর্তীতে বিভিন্ন এলাকায় খোজা খুজির এক পর্যায়ে ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল ১০:৩০ ঘটিকায় লোক মুখে জানতে পারে দেওয়ানগঞ্জ থানাধীন বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের মদনেরচর এলাকায় জনৈক আলতা মিয়ার আখ ক্ষেতের ভিতরে একজন পুরুষ লোকের মৃতদেহ পড়ে আছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে ভিকটিমের পরিবারের লোক তাৎক্ষনিক ঘটনা স্থলে গিয়ে দেখে মৃতদেহের মুখের একাংশ হইতে পায়ের উরু পর্যন্ত শরীরের মাংস শিয়াল বা অন্য কোন হিংস্র প্রাণী খেয়ে ফেলেছে এবং শরীরের হাড় দেখা যাচ্ছে। তখন পরিবারের লোকজন উক্ত লাশের কাপড়, জুতা, দৈহিক গঠন ও মুখের একাংশ দেখে মৃতদেহটি ভিকটিম সাগর @ আপেল (২৭) এর মর্মে সনাক্ত করে। এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই বাদি হয়ে (১) মোঃ রিপন মিয়া (৩০), পিতা- মোঃ আব্দুল্লাহ (২) মোঃ আব্দুল্লাহ (৬৫), পিতা- মৃত বগলু, (৩) মোঃ বাচ্চু (৫০), পিতা- মৃত বগলু, সকলের গ্রাম- মদনেরচর, থানা- দেওয়ানগঞ্জ, জেলা- জামালপুর’দের নামে জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে যার মামলা নং-১৭, তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০২৬।
ধৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করার কাজ প্রক্রিয়াধীন।

