নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার রাজনীতিতে দিদার হোসেন দিদার, যিনি “দিদার চেয়ারম্যান” নামে পরিচিত, এখন এক প্রভাবশালী ও নির্ধারক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলভিত্তিক শক্তিশালী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তাকে শুধু একজন নেতা নয়, বরং একটি রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকেই তাকে তুলনা করছেন ‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’র সঙ্গে—যার ডাকে অনুসারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দেয়। সোনাইমুড়ির বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দেখা যায়, দিদার চেয়ারম্যানের একটি আহ্বানেই হাজারো নেতা-কর্মী মাঠে নেমে আসেন। তার রাজনৈতিক কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ কিংবা সাংগঠনিক কার্যক্রমে ব্যাপক অংশগ্রহণ এই প্রভাবেরই প্রমাণ বহন করে।
দিদার হোসেন দিদার ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা একজন অভিজ্ঞ সংগঠক। ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতির মধ্য দিয়ে তার নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে এবং পরবর্তীতে তিনি উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এসব পদে থেকে তিনি সংগঠনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নতুন নেতৃত্ব তৈরিতেও ভূমিকা রাখেন বলে দলের নেতারা মনে করেন।
দেওটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে তার কর্মকালের স্মৃতি এখনো স্থানীয়দের মধ্যে আলোচিত। অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার দ্রুত সমাধান তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায়। তার সময়ে ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তা এবং স্থানীয় দ্বন্দ্ব নিরসনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি ‘জনবান্ধব চেয়ারম্যান’ হিসেবে পরিচিতি পান।
বর্তমানে তাকে ঘিরে ইউনিয়ন ও উপজেলা—দুই পর্যায়েই আলাদা আলাদা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দেওটি ইউনিয়নের তৃণমূল নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ চান, তিনি আবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হয়ে সরাসরি তাদের পাশে থাকুন। অন্যদিকে উপজেলা পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, তার মতো অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য নেতাকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে বৃহত্তর পরিসরে কাজে লাগানো উচিত।
দলীয় নেতাদের ভাষ্যমতে, দিদার চেয়ারম্যানের সবচেয়ে বড় শক্তি তার সংগঠনিক দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক। তিনি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং যেকোনো সংকটে পাশে দাঁড়ান। ফলে তার প্রতি এক ধরনের আবেগী ও আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা অবস্থানে নিয়ে গেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সোনাইমুড়িতে দিদার চেয়ারম্যানের অবস্থান এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে তাকে ঘিরেই অনেক রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারিত হয়। তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া বড় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বা নির্বাচনী পরিকল্পনা পূর্ণতা পায় না বলেও অনেকে মনে করেন।
এ প্রসঙ্গে দিদার হোসেন দিদার বলেন, “আমি সবসময় জনগণের জন্য রাজনীতি করি। আমার নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসী যেখানে আমাকে দেখতে চাইবে, আমি সেখানেই কাজ করতে প্রস্তুত। আমি বিশ্বাস করি জনগণের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং শীর্ষ নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা তার জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের নির্দেশনা অনুযায়ীই তিনি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
এদিকে সোনাইমুড়ি উপজেলাজুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—দিদার চেয়ারম্যান কি আবার ইউনিয়নে ফিরে আসবেন, নাকি উপজেলা পর্যায়ে নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব নেবেন। তবে যেখানেই তিনি অবস্থান নিন না কেন, তার প্রতি তৃণমূলের আস্থা ও সমর্থন যে অব্যাহত থাকবে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক মহলে এক ধরনের ঐকমত্য দেখা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, দিদার চেয়ারম্যান এখন শুধু একজন নেতা নন; তিনি সোনাইমুড়ির রাজনীতিতে একটি প্রতীক, যার নেতৃত্বে অনেকেই ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা খুঁজে পান।

