ঢাকাWednesday , 1 April 2026
  1. Home
  2. অন্যান্য
  3. অর্থনীতি
  4. আইন বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. জনপ্রিয় সংবাদ
  10. জাতীয়
  11. বিনোদন
  12. রাজধানী
  13. রাজনীতি
  14. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যুদ্ধে নামলে ধ্বংস হবে দুবাই‑আবুধাবি: অর্থনীতিবিদ জেফ্রি স্যাকসের ভয়াল সতর্কতা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের বিস্তৃত প্রভাব

Kobita afroz
April 1, 2026 7:50 pm
Link Copied!

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এখন কেবল সীমান্তের ঘটনা নয়; এটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, বিশ্ব অর্থনীতি এবং ভৌগোলিক কূটনীতির একটি কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ জেফ্রি স্যাকস সম্প্রতি বিশাল সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে যদি সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এই যুদ্ধ‑সংঘাতে আরও জড়িয়ে পড়ে, তাহলে দুবাই ও আবুধাবি ধ্বংসের মতো পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে। তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় আলোড়ন তৈরি করেছে এবং বিশ্ব রাজনীতির অংশীদারদের ভবিষ্যৎ কৌশল পুনর্মূল্যায়নের দাবি তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের ব্যাপক প্রতিরোধ এবং পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ‑রাজনীতিকে অতুলনীয়ভাবে বদলে দিয়েছে। ২০২০ সালে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তি‑তে যুক্ত হওয়া বিভিন্ন আরব দেশ, বিশেষত ইউএই ও ইস্রায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আরও জটিলতর হয়েছে। আপাত শান্তিপূর্ণ সম্পর্কই আজ বড় ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উত্তেজনার প্রধান কেন্দ্র। যুক্তরাষ্ট্র ও ইস্রায়েল প্রথমে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে, তেহরান ব্যাপক আকারে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। বার্লিংটন রিপোর্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ ইঙ্গিত দেয় যে ইরান প্রায় ৪০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও প্রায় ১,৮৭০ এর বেশি ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে, যদিও অনেকগুলো আকর্ষে হালকা আঘাতে প্রতিরোধ করা হয়েছে।

সাংবাদিক ও বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধটি শুধু সীমান্তীয় সংঘাত নয় — এটি বিশ্ব অর্থনীতি ও ট্রেড চেইনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। যুদ্ধের কারণে দুবাই ও আবুধাবি‑তে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার বাজার মূলধন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা স্টক মার্কেটের ইতিহাসে অন্যতম বড় ধাক্কা। দুবাইয়ের সূচক প্রায় ১৬% পতন করেছে এবং আবুধাবির সূচক প্রায় ৯% কমেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষতি কেবল বাজারে নয়; এটি ইউএই‑এর বিনিয়োগকারীর আস্থা, পর্যটন ব্যবসা, আন্তর্জাতিক সংযোগ ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। পর্যটন ও বিমান চলাচলের সেক্টরও যুদ্ধের কারণে বিঘ্নিত হয়েছে, ফলে আন্তর্জাতিক পরিবহণ ও গন্তব্যগুলোর নিরাপত্তার ধারণা এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।

আব্রাহাম চুক্তি ২০২০ সালে স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে ইস্রায়েল ও ইউএই ও অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ককে নতুন অর্থনীতিক ও রাজনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখা হয়েছিল। এই চুক্তির মাধ্যমে ইউএই ও ইস্রায়েল কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা গড়ে তুলেছিল এবং এটি আন্তর্জাতিক সমর্থনও পায়।

কিন্তু বর্তমান সংঘাতে এই সম্পর্কের কৌশলগত অবস্থানকে কিছু বিশ্লেষক “ঝুঁকির আমন্ত্রণ” বলে অভিহিত করেছেন। জেফ্রি স্যাকস বলেছেন, ইউএই‑এর “আক্ষেপ” এই যে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইস্রায়েলের পাশে অবস্থান করে নিজের ভূ‑রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক লাভের দিকে তাকিয়ে আরও জটিল পরিস্থিতিতে নিজেকে ঠেলে দিচ্ছে; এর ফলে তারা নিজেদের মূল উদ্দেশ্য — অর্থনৈতিক মডেল ও স্থিতিশীলতা — হারাতে পারে।

স্যাকস যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউএই‑কে সতর্ক করেছেন যে তার অর্থনৈতিক মডেল, যা পর্যটন, রিয়েল এস্টেট, লগিস্টিক ও ওয়ার্ল্ড ট্রেড‑ভিত্তিক, সামরিক পরিসরে টিকে থাকা কঠিন। তিনি বলেন “এই শহরগুলো পর্যটন ও বিনিয়োগ কেন্দ্র; এগুলো কোনও দুর্গ বা মহাকৌশল দূরাশ্রয় কেন্দ্র নয়। যদি যুদ্ধখাতে জড়ায়, তা শহরগুলোর কাঠামো ও মূল উদ্দেশ্যই ধ্বংস করবে।”

ইউএই‑এর রাজনীতি ও কূটনীতিতে খোদ দেশটিরও মন্তব্য আছে যে পরিস্থিতি কঠিনভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, এবং তারা অনেকে চাইছে নিজেদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিক। অনেকে এই উত্তেজনা মোকাবেলায় শান্তি উদ্যোগ, বৈশ্বিক কূটনৈতিক আলোচনায় অংশগ্রহণ, অথবা দ্বিপাক্ষিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে শুধু ভূরাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক কারণে নয়, সামাজিক ও মানবিক ফাঁকেও যুদ্ধটি গভীর প্রভাব ফেলেছে। আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো বলেন উচ্চ মূল্যবোধ, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি প্যাকেজ হয়ে উঠছে, যা বহু দেশের জন্য আবশ্যক সমাধান না পেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

বিশ্ব মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যেই এই সংঘাতের কারণে জনহানির প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং আঞ্চলিক সরকারগুলোকে শান্তি ও মানবিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করতে আহ্বান জানিয়েছে যদিও যুদ্ধের উত্তাপ কমার কোনো নির্দিষ্ট লক্ষণ নেই।

এই যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজার এলোমেলো হচ্ছে, বিশেষ করে তেলের মূল্য, শিপিং লাইন, ও সাপ্লাই চেইনগুলো প্রভাবিত হচ্ছে। যেসব দেশ এমন পরিস্থিতিতে জড়িত নয় তাদেরও অর্থনীতি খারাপ প্রতিক্রিয়া পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান যদি না দ্রুত পাওয়া যায়, তাহলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের তিক্ততা আরও বিস্তৃত হবে, এবং তা ভবিষ্যতের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।

এই ঘটনায় জেফ্রি স্যাকসের সতর্কতা শুধু এক জাতির বা অঞ্চলের কথা নয় — এটি আন্তর্জাতিক সমাজের জন্য একটি উদ্বেগজনক বার্তা, যা বলছে বর্তমান যুদ্ধের সিদ্ধান্তগুলো শুধুমাত্র সামরিক লক্ষ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্বব্যাপী মানবিক ও অর্থনৈতিক পরিণতি বয়ে আনতে পারে।