• ২৫শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ ইস্যু : দিল্লিতেই আস্থা ওয়াশিংটনের

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত নভেম্বর ১৪, ২০২৩, ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশ ইস্যু : দিল্লিতেই আস্থা ওয়াশিংটনের

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত। দিল্লির শক্ত অবস্থানের কারণে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে বেশ কিছুদিন ধরে চাপে রাখা যুক্তরাষ্ট্রও থমকে গেছে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

 

 

তাদের অভিমত, বাংলাদেশের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভারতের সঙ্গে দূরত্ব চাইবে না বাইডেন প্রশাসন। বরং জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত দিল্লির অবস্থানের প্রতি আস্থা রেখে বাংলাদেশ প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেবে তারা। অবশ্য ভোট ঘিরে সংলাপ-সমঝোতার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য তৎপরতা চলতে থাকবে।

 

 

ঢাকা ও দিল্লির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভারত বাংলাদেশ ইস্যুতে তাদের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে বেশ খোলাসা করেই জানিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশে চীনের প্রভাবের চেয়ে উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। আর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে এ মুহূর্তে শেখ হাসিনার সরকারের চেয়ে ভরসা করার মতো বিকল্প দেখছে না তারা। তাই ভারত শেখ হাসিনার বাইরে যাবে না। হাসিনা সরকারের প্রতি মোদি সরকারের আস্থা অগাধ।

 

 

হচ্ছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর পিটার শর্তহীন সংলাপের আহ্বান জানান।’

 

 

অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক আরও বলেন, ‘মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভিয়েতনাম, ইরাক বা অন্য কোথাও একপেশে এজেন্ডা নিয়ে সফল হতে পারেনি ওয়াশিংটন। তাই এ অঞ্চলে ভূরাজনীতি ও কৌশলগত স্বার্থে বাংলাদেশ প্রশ্নে দিল্লির অবস্থানের বাইরে যাওয়ার ঝুঁকি ওয়াশিংটন নেবে না বলে মনে করি।’

 

 

বহুমাত্রিক বৈশ্বিক কাঠামোতে ভারতের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ এমন মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘চীনের প্রভাব কমানো ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক বিষয়ে ভারত নিজের শক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এক্ষেত্রে এ অঞ্চলের বন্ধুদেশগুলোর বাইরে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো শক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। আর বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারকে যে ভারত বিশেষ গুরুত্ব দেয় তা যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও অবগত আছে।’

 

 

তিনি বলেন, ‘দিল্লি বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে বাইরের হস্তক্ষেপ চায় না। তাদের অবস্থান হলো, এদেশের জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। যুক্তরাষ্ট্রও বোঝে, ভারতের মতের বাইরে গিয়ে এ অঞ্চলে সুবিধা করতে পারবে না।’

 

 

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২৮ অক্টোবরের পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলোর ঢাকায় কর্মরত কূটনীতিকরা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা, দলটির গ্রেপ্তার হওয়া নেতাকর্মীদের মুক্ত করা, নতুন করে ধরপাকড় না করা এবং নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির জন্য সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক দিল্লি ও কলকাতা ঘুরে এসেছেন।

 

 

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের কার্যক্রমে সরকার খুশি নয়, এটা স্পষ্ট। তাই বড় দুই দলের মধ্যে দূরত্ব কমাতে ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে সক্রিয় করেছে পশ্চিমা বিশ্ব। যদিও সারাহ কুকের সফর নিয়ে কোনো পক্ষই মুখ খোলেনি।