পাহাড়ের হাড়কাঁপানো শীতে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, তখন মানবতার উষ্ণতা নিয়ে গভীর রাতে শহরের অলিগলি চষে বেড়ালেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ২টায় যখন তীব্র শৈত্যপ্রবাহে শহর নিস্তব্ধ, তখন তিনি নিজ হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন ঘুমন্ত ছিন্নমূল ও শ্রমজীবী মানুষের গায়ে।
শহরের অধিকাংশ মানুষ যখন উষ্ণ কাঁথার নিচে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, মো. হাবীব আজম তখন বনরূপা থেকে শুরু করে মানিকছড়ি পর্যন্ত বিভিন্ন জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ঘুরে বেড়ান। যারা স্টেশনে, বাজারের বারান্দায় কিংবা খোলা আকাশের নিচে শীতে কাঁপছিলেন, তাদের শরীরে কম্বল জড়িয়ে দিয়ে উষ্ণতার পরশ পৌঁছে দেন তিনি।
শীতবস্ত্র বিতরণকালে মো. হাবীব আজম বলেন, এই প্রচণ্ড শীতে সমাজের সবচেয়ে অসহায় মানুষগুলোই সবচেয়ে বেশি কষ্টে থাকে। ভালোবাসা দিয়ে দেওয়া একটি ছোট উপহারও তাদের বড় কষ্ট লাঘব করতে পারে। দিন-রাত বা সময় দেখে নয়, যখনই প্রয়োজন তখনই মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবিকতা। এই গভীর রাতে তাদের পাশে থাকতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।
তিনি আরও বলেন, শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে সমাজের বিত্তবান ও সামাজিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে পাহাড়ের কোনো মানুষকেই আর শীতের কষ্টে ভুগতে হবে না।শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পরিচালিত এই কার্যক্রমে কোনো এলাকা বাদ পড়েনি। উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে,
বাজার এলাকা: বনরূপা, তবলছড়ি, রিজার্ভ বাজার ও নিউ মার্কেট। দোয়েল চত্বর, হ্যাপিরমোড়, শহীদ মিনার ও পৌরসভা প্রাঙ্গণ।অন্যান্য নতুন বাসস্ট্যান্ড, পুরাতন পুলিশ লাইন, আসামবস্তি, মানিকছড়ি, ভেদভেদি, কলেজ গেইট ও হাসপাতাল এলাকা।সাথে ছিলেন
যারাএই মানবিক উদ্যোগে মো. হাবীব আজমের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরশেদ আলম, হিল সার্ভিসের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাসুদ রানা রুবেল, রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. ওমর মোরশেদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আব্দুল মান্নান, নূর মোহাম্মদ হাসিব, নাজমুল হাসানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
হঠাৎ গভীর রাতে এমন সাহায্য পেয়ে অনেক ছিন্নমূল মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা জানান, রাত ২টায় কেউ তাদের কথা ভেবে পাশে দাঁড়াবে,তা ছিল কল্পনার বাইরে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই উদ্যোগটি সমাজের জন্য একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

