ঢাকাFriday , 20 March 2026
  1. Home
  2. অন্যান্য
  3. অর্থনীতি
  4. আইন বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. জনপ্রিয় সংবাদ
  10. জাতীয়
  11. বিনোদন
  12. রাজধানী
  13. রাজনীতি
  14. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চাঁদা না দেওয়ায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রিকে বারবার মারধর, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

Kobita afroz
March 20, 2026 11:22 am
Link Copied!

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রিকে দফায় দফায় মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ধারাবাহিক নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে ভুক্তভোগী যুবক আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের গনিপুর এলাকায় মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, একই বাড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ ইয়াছিন, জাকির হোসেন ও শাহনাজ আক্তার ও সুবেল সহ আরও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামী রিয়াজ হোসেন রাজুর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন সময় হুমকি ও নির্যাতন চালিয়ে আসছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সর্বশেষ গত ৪ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখ দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে গনিপুর এলাকায় একটি নাল জমিতে মাছ চাষের প্রস্তুতি নিতে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে রাজুর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাকে এসএস পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মাথা, বুক ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে।

রাজুর চিৎকারে স্থানীয় ইউসুফ কামাল এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এক পর্যায়ে ইয়াছিন, রাজুর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করে। একই সময় জাকির হোসেন, রাজুর কাছে থাকা ব্যবসার নগদ ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ করা হয়।

পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত রাজুকে উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, এর আগেও ২০২২, ২০২৪ এবং চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে একই ঘটনায় রাজুকে একাধিকবার মারধর করা হয়েছে। এসব নির্যাতনের কারণে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৩ মার্চ রাজুর ওপর আবার হামলার চেষ্টা হলে তিনি জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেন। ট্রিপল নাম্বারের কল পেয়েও চৌমুহনী ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন ঘটনাস্থলে কার্যকর কোনো সহায়তা না দিয়ে হতাশাজনক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার এমন আচরণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযুক্ত ইয়াছিন এলাকায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। রাজু একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি যেখানে কাজ করতে যান, সেখানেই ইয়াছিন চাঁদা দাবি করে এবং দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। বারবার নির্যাতন ও বিচার না পেয়ে গত ১৫ মার্চ বিকেলে চৌমুহনী বাজারে রাজু আত্মহত্যার চেষ্টা করলে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

ঘটনাটি এলাকায় চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখছি, তদন্ত সাপেক্ষে আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।