দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামের পাশে বেড়াখাই মৌজায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ৪ একর জমিতে রোপিত সরিষা ক্ষেত পাওয়ার ট্রিলার দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে।
থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জোতবানী ইউনিয়নের জোতমাধব গ্রামের রহমত আলী জাকির ও হাবিবুর রহমান পার্শ্ববর্তী মুকুন্দপুর ইউনিয়নের বেড়াখাই মৌজায় তাদের পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ৫.১২ একর জমি পারিবারিকভাবে দীর্ঘদিন থেকে ভোগদখল করে ফসল চাষাবাদ করে আসছে। এরমধ্যে চলতি রবিশস্য মৌসুমে ৪ একর জমিতে সরিষা রোপন করেছে। সবেমাত্র সরিষা বীজ থেকে চারা ফুটে বড় হতে শুরু করেছে। গত শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে মুকুন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মুকুন্দপুর গ্রামের চিহ্নিত কয়েকজন ব্যক্তি পূর্ব শত্রুতার জেরে তীর-ধনুক ও ধারালো অস্ত্রসস্ত্র সহ পাওয়ার ট্রিলার নিয়ে এসে জোরপূর্বক উক্ত ৪ একর জমির সরিষা ক্ষেত মাড়িয়ে নষ্ট করে ও জমি চাষ করতে থাকে। খবর পেয়ে ভুক্তভোগীরা এসে বাঁধা ও নিষেধ করলে অভিযুক্তরা তাদের ভয়ভীতি দেখায় ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে।
ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান জানান, পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত আমাদের জমির দলিল, খাজনা-খারিজ ও মাঠ পর্চা সবই আছে। অথচ দক্ষিণ মুকুন্দপুর গ্রামের প্রভাবশালী কয়েকজন জোরপূর্বক আমাদের জমি জবরদখলের পায়তারা করছে। চার একর জমিতে সরিষা চাষে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিপক্ষরা জমি দাবি করে অথচ, জমির কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনা। প্রত্যেকবার ফসল আবাদের সময় তারা এসে গন্ডগোল করে জমির ফসল নষ্ট করে। তিনি জমির ফসল নষ্টের সঠিক বিচার দাবী করেন।
সরিষার ক্ষেত নষ্ট ও হুমকি প্রদানের বিষয়ে হাবিবুর রহমানের ভাই অপর ভুক্তভোগী রহমত আলী জাকির ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫/২০ জনকে বিবাদী করে বিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই মাজেদ আলী জানান, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখিত ১নং বিবাদী সাঈদ ইবনে সামাদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বেড়াখাই মৌজার উক্ত জমি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে আদালতে উভয়পক্ষের মামলা চলছে। তিনি উক্ত জমি তাদের ভোগদখলীয় দাবি করে বলেন, ৪ একর জমিতে কোন সরিষা আবাদ করা হয়নি। জমিতে ঘাষ গজানোর কারণে ধান চাষের উদ্দেশ্যে তারা জমি চাষ করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কমল কৃষ্ণ রায় বলেন, জমিজমার মালিকানা নিয়ে সমস্যা থাকলে তা আদালতে নিষ্পত্তি করতে হবে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে জমির ফসল নষ্ট করা অমানবিক কাজ। এধরনের অপকর্ম যারা করে, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।

