ঢাকাSunday , 22 February 2026
  1. Home
  2. অন্যান্য
  3. অর্থনীতি
  4. আইন বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. জনপ্রিয় সংবাদ
  10. জাতীয়
  11. বিনোদন
  12. রাজধানী
  13. রাজনীতি
  14. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কবর অচেনা মানুষের ভিড়ে

Kobita afroz
February 22, 2026 12:15 pm
Link Copied!

বগুড়া শহরের ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকার মধ্যে প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচল। অথচ সেই ভিড়ের মাঝেই নীরবে পড়ে আছে একটি ঐতিহাসিক কবর—যার গুরুত্ব সম্পর্কে জানেন না অধিকাংশ মানুষ।

স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, বগুড়া শরীফ উদ্দিন সুপার মার্কেট (সাবেক আলতাফ আলী মার্কেট) এলাকায় অবস্থিত দুটি কবরের একটি হলো অবিভক্ত পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী বগুড়া-এর।

বিশাল সম্পত্তির মালিক ছিলেন মোহাম্মদ আলী

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, মোহাম্মদ আলী বগুড়া শহর ও এর আশপাশে শত শত বিঘা জমির মালিক ছিলেন। তার বসবাসের জন্য ছিল একটি বিশাল প্রাসাদসদৃশ প্যালেস। মৃত্যুর পর সেই প্যালেসের পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়।

কালের পরিক্রমায় তার অধিকাংশ সম্পত্তি দখল ও বিক্রির মাধ্যমে হারিয়ে যায়। তার ঐতিহাসিক প্যালেসটি ভেঙে ফেলা হয়, যার একটি অংশে পরবর্তীতে গড়ে ওঠে বাণিজ্যিক ভবন। বর্তমানে সেই এলাকায় গড়ে উঠেছে বহুতল মার্কেট ও দোকানপাট।

কবরের জায়গা দিয়ে এখন রাস্তা

স্থানীয়দের মতে, একসময় কবরের জায়গাটি পুরোপুরি ঘেরা ছিল এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ঘেরাও ভেঙে ফেলা হয় এবং বর্তমানে কবরের ভেতর দিয়েই চলাচলের রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।

কবরের ভেতরে একসময় ফুলের গাছ লাগানোর জন্য নির্দিষ্ট খোপ ছিল, যেখানে এখন আর কোনো গাছ নেই—শুধু আগাছা জন্মেছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সেই কবরের ওপর দিয়েই চলাচল করলেও অধিকাংশই জানেন না, এটি একসময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সমাধিস্থল বলে পরিচিত।

ইতিহাস হারিয়ে যাচ্ছে অবহেলায়

ইতিহাসবিদদের মতে, উপযুক্ত সংরক্ষণ ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের অভাবে দেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। বগুড়ার এই কবরটিও তারই একটি উদাহরণ হতে পারে।

স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এই কবরও ভেঙে সেখানে দোকান বা স্থাপনা নির্মাণ করা হতে পারে, যদি এখনই উদ্যোগ না নেওয়া হয়।

মৃত্যুর পর স্মৃতিই শেষ আশ্রয়

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই জীবন ও মৃত্যুর বাস্তবতা নিয়ে মন্তব্য করছেন। একজন লিখেছেন,
“যখন একজন দেশের প্রধানমন্ত্রীর কবরই মানুষ চিনতে পারে না, তখন সাধারণ মানুষের স্মৃতি কতদিনই বা টিকে থাকবে?”

ইতিহাস সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগ না থাকলে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো জানতেই পারবে না—একসময় এই শহরেই শায়িত ছিলেন একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী।