শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ঈদগাহ মাঠকে ‘নিরাপদ স্থান’ হিসেবে ব্যবহার, এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে মাদকদ্রব্য কেনাবেচা। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন সড়ক এবং খোলা মাঠকে মাদক ব্যবসার নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহার করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। সন্ধ্যার পরপরই এসব এলাকায় ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকের প্রকাশ্য লেনদেন চলে বলে জানান স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক ব্যবসার সঙ্গে প্রভাবশালী কিছু নেতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসাধু সদস্যদের যোগসাজশ রয়েছে। মাদকসেবী ও কারবারিদের আটক করলেও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবাদ বা অভিযোগ জানাতে গেলে উল্টো শত্রুতা বাড়ে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক বলেন,
“মাদক ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী নেতা ও পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করে। আমরা কিছু বললেই উল্টো আমাদেরই বিপদে পড়তে হয়। আমাদের ছেলেমেয়েদের নিরাপত্তার কথা ভেবে চুপ থাকতে বাধ্য হচ্ছি।”
অভিযোগে আরও বলা হয়, কিশোর ও তরুণ সমাজ দ্রুত মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। সামাজিক শাসন ও পারিবারিক মূল্যবোধ ভেঙে পড়ছে। কেউ মাদক নিয়ে কথা বললে প্রকাশ্যেই বলা হয়—“আমি আমার বাবার টাকায় খাই, তোর সমস্যা কী?”—এমন দৃষ্টান্ত এখন নিত্যদিনের ঘটনা।
বিশেষ করে মুহুরীগঞ্জ এলাকার মুহুরীগঞ্জ আব্দুল মতিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের ভবনগুলোতে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর মাদকের আড্ডা বসে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দূরদূরান্ত থেকে মাদক কারবারিরা এখানে এসে জড়ো হয় এবং এটি কার্যত একটি “ওপেন মার্কেট”-এ পরিণত হয়েছে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, প্রশাসন সবকিছু জেনেও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বরং প্রতিদিন সন্ধ্যার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়ে কিছু অসাধু সদস্য অর্থ নিয়ে চলে যান—এমন অভিযোগও উঠেছে। দীর্ঘদিনেও বড় কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় আনা হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, যেসব নেতা সমাজ উন্নয়ন ও দেশ গঠনের কথা বলেন, তাদের একটি অংশই নেপথ্যে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত—এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অভিযোগকারীরা বলেন, এসব নেতাদের সন্তানরা শহরের নামী স্কুল-কলেজ বা বিদেশে পড়াশোনা করলেও সাধারণ মানুষের সন্তানরা মাদকের ছোবলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসী দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিতকরণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থানের আশপাশে কঠোর নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন।

