স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা বিভাগীয় প্রধান ও কূটনৈতিক সংবাদদাতা
স্বাধীন বাংলাদেশে দরিদ্র ও সাধারণ জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, প্রাণনাশের হুমকি এবং ভুয়া নথিপত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ‘ইফাদ ফাউন্ডেশন’, ‘আন্তর্জাতিক তহবিল কৃষি উন্নয়ন (ইফাদ)’, ‘ইফাদ ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প’ ও ‘ইফাদ মাইক্রো ফাইন্যান্স প্রজেক্ট’ নাম ব্যবহারকারী একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে।
ইতালি ও বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল—ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং ভুক্তভোগীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে এই বিশেষ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহৃত সার্টিফিকেট, কর্মকর্তাদের আইডি কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র ও অফিসের ঠিকানা যাচাই করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা এগুলোকে ভুয়া ও জাল বলে শনাক্ত করেছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতারক চক্রের সদস্যরা অফিস নম্বর থেকে মেসেজ, সরাসরি মোবাইল ফোন কল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের উচ্চপর্যায়ের ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন। তারা দাবি করেন যে, তাদের সঙ্গে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। অভিযোগকারীরা জানান, প্রতারণার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, একটি অনলাইন লিংকের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করে অনেককে ছোট অঙ্কের (১০, ২০, ৩০ ও ৪০ হাজার টাকা) ঋণ প্রদান করা হলেও বড় অঙ্কের ঋণের নামে ভুয়া ডকুমেন্ট তৈরি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজোলিউশন বিভাগের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান খান স্বাক্ষরিত সরকারি ছুটির দিনের ভুয়া চিঠিও ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখিতদের মধ্যে নিজেকে ‘এমসিও প্রধান, ইফাদ মাইক্রো ফাইন্যান্স প্রজেক্ট, বাংলাদেশ’ পরিচয়দানকারী একজনসহ বিভিন্ন অঞ্চলের তথাকথিত লোন ম্যানেজার, লোন অফিসার, অর্থ ট্রান্সফার অফিসার ও ট্যাক্স অফিসার পরিচয়ে কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তবে তাদের ব্যবহৃত পরিচয়পত্র ও নথিপত্রও তদন্তে জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল অফিসের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নির্দেশে সিআইডি ও মালিবাগ সিপিসি হেড অফিস অভিযোগের নথি গ্রহণ করেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এখনো দৃশ্যমান কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে র্যাব-১, র্যাব-১০, সিপিসি-৩, জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানালেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইনে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রলোভনে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে এবং সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ লেনদেন না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

