ঢাকাSaturday , 30 August 2025
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জনপ্রিয় সংবাদ
  9. জাতীয়
  10. বিনোদন
  11. রাজধানী
  12. রাজনীতি
  13. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে জিসপ আয়োজিত শহীদ ও আহত পরিবারকে সংবর্ধনা শহীদদের আত্মত্যাগ গণতন্ত্রের সংগ্রামে প্রেরণার উৎস– তারেক রহমান

admin
August 30, 2025 2:28 pm
Link Copied!

সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে জিসপ আয়োজিত শহীদ ও আহত পরিবারকে সংবর্ধনা

শহীদদের আত্মত্যাগ গণতন্ত্রের সংগ্রামে প্রেরণার উৎস– তারেক রহমান

স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা, শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫ :
আজ সকাল ১১টায় রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ (জিসপ) আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। জুলাই ও আগস্ট মাসে প্রাণ হারানো শহীদদের পরিবার এবং আন্দোলনে আহতদের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা জানাতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় স্মৃতিচারণা, আবেগ ও অনুপ্রেরণার এক মহাসমাবেশে।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জিসপ সভাপতি এম. গিয়াস উদ্দিন খোকন এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট কামাল হোসেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু। তিনি শহীদ পরিবারকে সম্মান জানিয়ে বলেন,
> “যে পরিবারে শহীদের জন্ম হয়, সেই পরিবার জাতির সম্পদ। শহীদদের আত্মত্যাগই আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শক্তি। তাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও অধিকার আমরা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দিতে পারি না। আজকে যারা গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করছেন, তারা শহীদদের উত্তরসূরি হিসেবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।”

> “আজকের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং শহীদ পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি। বিএনপি এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী সব সংগঠন শহীদ পরিবারের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন,

> “শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি সম্মান দেখানো মানেই দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রদর্শন। শহীদরা নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র কোনো ব্যক্তির নয়, এটি সমগ্র জাতির। তাই তাদের পরিবারকে সম্মান জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

বিএনপির উপদেষ্টা মণ্ডলীর অন্যতম সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন,
> “আজকের এই সংবর্ধনা শহীদ পরিবারের আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিবারগুলো বুঝতে পারছে, তারা একা নয়, একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি সব সময় তাদের পাশে আছে। দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে শহীদ পরিবারগুলো আমাদের শক্তির উৎস।”

উপদেষ্টা মণ্ডলীর আরেক সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন,

> “যখন দেশে গণতন্ত্র হুমকির মুখে, তখন শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা মানে সেই আন্দোলনকে আরও দৃঢ় করা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী হিসেবে আমরা সব সময় শহীদ পরিবারের পাশে আছি।”

বিএনপির সহ-কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন,

> “আজ যারা সংবর্ধনা পাচ্ছেন, তাদের স্বজনরা দেশের গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। আমরা অঙ্গীকার করছি, দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাবো।”

শামীমা বরকত লাকি বলেন,
> “শহীদ পরিবারগুলো শুধু সম্মানের দাবিদার নন, তারা দেশের ইতিহাসের অংশ। তাদের ত্যাগকে স্মরণ রাখা মানেই আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস শেখানো।”

প্রকৌশলী ড. শাহ আলম বলেন,
> “আমাদের জাতীয় জীবনে শহীদদের ত্যাগ অনন্য দৃষ্টান্ত। তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো শুধু রাজনৈতিক দায় নয়, এটি একটি মানবিক দায়িত্ব।”

প্রফেসর শাহ আলম বলেন,
> “আজকের প্রজন্মকে শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়েই আমাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে হবে।”

অনুষ্ঠানটি শুরু হয় শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে। এরপর শহীদ পরিবারের সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। একে একে পরিবারের সদস্যরা মঞ্চে উঠে সম্মান গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপি এবং জিসপ নেতৃবৃন্দ শহীদ পরিবারের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামের প্রতিটি আসন ছিল পূর্ণ। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পরিবেশ ছিল এক উৎসবমুখর আবহে ভরপুর।

জিসপ-এর ভূমিকা
বক্তারা উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ (জিসপ) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শহীদ পরিবার ও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, আর্থিক সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে জিসপের অবদান উল্লেখযোগ্য। আজকের অনুষ্ঠানটি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

সভাপতি এম. গিয়াস উদ্দিন খোকন তার বক্তব্যে বলেন,
> “আমরা মনে করি শহীদদের রক্তে অর্জিত গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জিসপ সব সময় শহীদ পরিবারের পাশে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।”
> “এই অনুষ্ঠান কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি একটি অঙ্গীকার। আমরা প্রতিজ্ঞা করছি, শহীদ পরিবারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।”

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সংহতি ও উপস্থিতি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের জন্য বড় প্রেরণা হয়ে উঠেছে। তাদের মতে, শহীদদের স্মরণ এবং শহীদ পরিবারকে সম্মান জানানো রাজনৈতিক আন্দোলনকে আরও জনসম্পৃক্ত করে তুলবে।

অন্যদিকে, অনুষ্ঠানস্থলে আসা তরুণ কর্মীরা জানান, তারা শহীদ পরিবার থেকে অনুপ্রেরণা পান। এক তরুণ বলেন,

> “যারা নিজেদের জীবন দিয়েছেন, তারা আমাদের নায়ক। তাদের পরিবারের প্রতি সম্মান জানাতে পারা আমাদের জন্য গর্বের।”

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আবারও শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং এটি ছিল শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, শহীদ পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নতুন উদ্দীপনা সঞ্চারের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।