পাবনার চাটমোহর উপজেলায় অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ইমরান হোসেন নামে এক কিশোর চালককে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আপন চাচাতো ভাইসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার রামচন্দ্রপুর শ্মশান এলাকা থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ইমরান পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের শুকুরভাঙ্গা গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় শুকুরভাঙ্গা এলাকা থেকে ইমরানের অটোভ্যানটি ভাড়া নেন আপন চাচাতো ভাই সুমন হোসেন। এ সময় সুমনের সঙ্গে হেলালসহ আরও দুজন যাত্রী হিসেবে ছিলেন।
তারা সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চাটমোহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করেন। পরে রাত ১০টার দিকে রামচন্দ্রপুর শ্মশান এলাকায় ভ্যান ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ইমরানকে প্রথমে মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে সুমন ও সহযোগীরা ইমরানকে ফাঁস দিয়ে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গুড়া উপজেলার একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।
নিহতের নিকটাত্মীয় সাদ্দাম হোসেন জানান, রাতে ইমরান বাড়িতে না ফেরায় স্বজনেরা খোঁজ শুরু করেন।
একপর্যায়ে তারা জানতে পারেন, তিন ব্যক্তিকে নিয়ে ভাড়ায় গেছেন ওই কিশোর। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে গভীর রাতে ভাঙ্গুড়া থেকে তিনজনকে আটক করে চাটমোহরে নিয়ে আসেন এলাকাবাসী।
ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে অভিযুক্তরা ইমরানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে ভোরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
চাটমোহর থানার ওসি গোলাম সারওয়ার হোসেন বলেন, “নিহতের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখমের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক তিনজনকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।”
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ছিনতাই হওয়া অটোভ্যানটি উদ্ধারে অভিযান চলছিল।

