English

যুক্তরাজ্যে প্রথম ‘সমকামী মুসলিম’ হিসেবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুবকের বিয়ে

১২ জুলাই ২০১৭, ১৫:১৩

জনসংবাদ ডেক্সঃ যুক্তরাজ্যের ‘প্রথম মুসলিম’ হিসেবে সমকামী বিয়ে করেছেন জাহেদ চৌধুরী নামে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুবক। যুক্তরাজ্যের পশ্চিম মিডল্যান্ডের ওয়ালসাল শহরে জাহেদ চৌধুরী ও সিন রোগান বিয়ে করেন প্রিয়জনদের উপস্থিতিতে।

মুসলিম সঙ্গীর অংশগ্রহণে এটিই যুক্তরাজ্যের প্রথম সমকামী বিয়ে বলে দাবি করা হচ্ছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিয়ের ভিডিও এবং ছবিতে তাদেরকে বাংলাদেশি বিয়ের ঐহিত্যবাহী পোশাকে দেখা যায়।

বিয়ের পর ২৪ বছরের জাহেদ ‘দ্য এক্সপ্রেস অ্যান্ড স্টার’কে নিজের অনুভূতি জানিয়ে বলেন, “নিজেকে সব সময়ই বাংলাদেশি মুসলিম পরিবারের কুলাঙ্গার বলে মনে হত। স্কুলে আমাকে উৎপীড়নের শিকার হতে হয়েছে। অন্য মুসলিমরা আমার ওপর চড়াও হত এবং স্থানীয় মসজিদে আমার যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল।”

পরবর্তীতে জাহেদ নিজের লিঙ্গ পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। তার যৌনগত আচরণ পরিবর্তনের জন্য গার্লফ্রেন্ডের ব্যবস্থা করা হয়, পরিবার তাকে হজ্ব পালনে সৌদি আরবে নিয়ে যান। বাংলাদেশে এনেও ধর্মীয় নিয়ম-কানুন পালনে সচেষ্ট করা হয় তাকে। এক পর্যায়ে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সে সময় রোগানের সঙ্গে দেখা হয় তার। রোগানকে দেখে জীবনের মানে খুঁজে পান তিনি। তারা ২০১৫ সাল থেকে একসঙ্গে থাকা শুরু করেন। পরে গত বছর রোগানের জন্মদিনে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন জাহেদ।

জাহেদ বলেন, “আমি লোকজনকে দেখাতে চাই যে, আমি এসব পাত্তা দেই না। আমার পরিবার আমার বিয়েতে উপস্থিত থাকতে চায়নি, তারা এ বিয়ে দেখতেই চায়নি, এটি তাদের জন্য অস্বস্তিদায়কও বটে।” “তারা ভাবে এটি এক ধরনের রোগ যার চিকিৎসা আছে। আমার পরিবারের কেউ কেউ এটিকে এখনও গ্রহের দশা ভাবে।”

 

তিনি আরও বলেন, “আমি এরকম পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়া সব মানুষকে বলতে চাই, এটি আসলে ঠিকই আছে। আমরা পুরো বিশ্বকে দেখাতে চাই, আমরা একইসঙ্গে সমকামী এবং মুসলিম হতে পারি।”

১৯ বছরের রোগান বলেন, তিনি জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তার স্বামীর পাশে থাকবেন। “সমকামী হওয়া কোনও অপরাধ নয়। এটি কোনও অসুস্থতাও নয়। শুধু মানুষের একটু সমর্থন প্রয়োজন।”

২০১৩ সালে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসে সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ ঘোষণা করা হয়। যদিও ‘দ্য মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন’ এবং ‘দ্য চার্চ অব ইংল্যান্ড’ এ আইনের বিপক্ষে।

সর্বাধিক ক্লিক